ঝিকরগাছায় মসজিদ কমিটিতে নাশকতার আসামিরা, পুলিশ পাহারায় নামাজ

ঝিকরগাছার হাজিরবাগ বিষ্ণুপুর উত্তরপাড়া কুবা জামে মসজিদ

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ পাহারায় হচ্ছে নামাজ আদায়। কমিটিতে জামাত-বিএনপির সন্ত্রাসীদের (নাশকতা মামলার আসামি) নাম আসায় জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক সুষ্ঠু সমাধানের দাবিতে বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মসজিদটিতে বর্তমান যে কমিটি রয়েছে সেটি গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সম্মতিক্রমে রেজুলেশনের মাধ্যমে এর মেয়াদকাল তিন বছর করা হলেও সাত মাসেই তা ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত উপজেলা নির্বাচনে নাশকতা মামলার আসামি আমিরুল ইসলাম আনারস প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করেন। উপজেলায় নৌকাকে হারিয়ে আনারস প্রতীকের প্রার্থী জয়লাভ করার পর থেকেই আমিরুল বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার ভয়ে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিষ্ণুপুর উত্তরপাড়া কুবা জামে মসজিদে পরিচালনার জন্য দুই বছরের জন্য একটি পরিচালনা পরিষদ গঠন করা হয়। স্থানীয় মহল্লাবাসীর উপস্থিতিতে রেজাউল ইসলামকে সভাপতি, আজিজুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক ও মোশারফ হোসেনকে কোষাধ্যক্ষ করে একটি পরিচালনা পরিষদ গঠিত হয়। নবনির্বাচিত কমিটি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছিল। কিন্তু সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ মিজানুর রহমান কারও সাথে কোনো কিছু আলোচনা না করে নতুন কমিটি করার ঘোষণা দেন।

তিনি তার ছোট ভাই আমিরুল ইসলামকে সভাপতির প্রস্তাব দেন এবং তার অপর এক ভাই জিয়াউর রহমান নাশকতা মামলার আসামি বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক এবং মিজানুর রহমান পরে আবার তার চাচাতো ভাই বিএনপি নেতা তোফাজ্জেল হোসেনকে কোষাধ্যক্ষ করার প্রস্তাব দেন। এ প্রস্তাবে মহল্লার কোনো মুসল্লি সাড়া দেননি। কারও সাথে কোনো আলোচনা বা মহল্লার অন্য কারও প্রস্তাব সমর্থন না নিয়ে নিজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কমিটি ঘোষণা করায় সকলের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চলমান কমিটির নেতৃবৃন্দ ও নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। যেকোন সময় বড় ধরণের সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে গ্রামবাসী আশঙ্কা করছে।

ফলে মসজিদটিতে পুলিশ পাহারায় গত দুই জুমার নামাজ আদায় করেছে। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায় বিচারের দাবি করে চলমান কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মহল্লার মুসল্লি রানা হোসেন জানান, চলমান একটি কমিটি রয়েছে। এখানে নতুন কোনো কমিটি করার প্রয়োজন নেই। গ্রামের গণ্ডগোল সৃষ্টি করার জন্য এ কাজ করা হচ্ছে।

চলমান কমিটির সভাপতি রেজাউল ইসলাম জানান, মহল্লাবাসীর উপস্থিতিতে আমাদের কমিটি হয়েছিল। যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদন রয়েছে। ক্ষমতার জোরে দেয়া অবৈধ কোনো কমিটি আমরা মানবো না। আর এখানে যাদের নাম ঘোষণা করেছে তারা সকলে বিএনপির কর্মী ও নাশকতা মামলার আসামি।

সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান জানান, মিজানুর রহমানরা এলাকার টাকাওয়ালা প্রভাবশালী মানুষ। তারা বিএনপি করার সত্বেও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা তাদের পাশে রয়েছে। এ সুযোগে তারা তাদের নেতাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে বিএনপির সংগঠনকে শক্তিশালী করছে।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান জানান, বিষ্ণুপুর গ্রামের বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী পালন করার জন্য স্কুল মাঠে অনুষ্ঠান হচ্ছিল। সেখানে গিয়ে এ আমিরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো মাইক বন্ধ করে দিয়েছিল। তাকেই সভাপতি বানানো হচ্ছে।

বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ জানান, তাদের মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপ বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে। যাতে কোনো গণ্ডগোল না হয় সেজন্য পুলিশ দেয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হবে।