হঠাৎ দু্ই চ্যাম্পিয়ন থানায়, অতঃপর…

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

দু’জনেই জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। একজন সাঁতারে অপর জন টেবিল টেনিসে। দু’জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক দুই বছর ধরে। কিন্তু ঠুনকো ঘটনায় সে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পথে। দুইজনেই শুক্রবার বিকেলে গিয়েছিলেন যশোর কোতয়ালি থানা। একে অপরের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগও দেন পুলিশের কাছে। কিন্তু পুলিশ সবঘটনা শুনে কি করবেন তা নিয়ে পড়েন বেকায়দায়। অগত্য উভয়কে বুঝিয়ে শান্ত করে তাদের ফেরৎ পাঠায় পুলিশ।

বগুড়ার মেয়ে মিতু, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া ও বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার ভাষ্যমতে, এ বছর জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন তিনি। সাঁতার কেটে বাংলা চ্যানেল পার হওয়া প্রথম নারীও তিনি। টেকনাফ থেকে ২৬ কিলোমিটার সমুদ্রপথ সেন্টমার্টিন। দুইবার তিনি ওই পথ পাড়ি দিয়েছেন। খেলাধুলার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ। সেই কারণে ওই ক্রীড়া বিজ্ঞান নিয়ে লেখাপড়া।

ময়মনসিংহে জন্মস্থান হলেও ঢাকার বাসিন্দা মিনহাজ আহমেদ প্লাবন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। টেবিল টেনিসে পরপর তিনবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন তিনি। তার ভাষ্যমতে, তিনি জাতীয় টেবিল টেনিসে ২০১৬, ১৭, ১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন। ভারতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে বাংলাদেশের হয়ে টেবিল টেনিসে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

তিনি বলেছেন, ঢাকাতে বছর দুইয়েক আগে মিতুর সাথে তার পরিচয়। সেই থেকে দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। আর মিতু বলেছেন, ফেসবুকের মাধ্যমে প্লাবনের সাথে তার পরিচয়। সেই থেকে বন্ধুত্ব। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক নেই। প্লাবন আমার সাথে অভিভাবকত্ব আচরণ করে যা আমার পছন্দ না। আমার কিছু ছবি তুলে সে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। যে কারণে তার সাথে আমার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও পিছু ছাড়ে না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার জন্য থানায় এসেছি।

প্লাবন জানিয়েছেন, মিতুর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক। মিতুর আচরণ ভাল না। কারণে অকারণে সে বাইরে বের হয়। অপরিচিত ছেলেদের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে। যা পছন্দ না আমার। তাকে শুধরানোর জন্য উপদেশ দিই মাত্র।

প্লাবন বলেছেন, ‘মিতু যখন বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেয়। সে সময় লাইফ বোটে আমি ছিলাম। তার অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে জীবনের গ্যারান্টার আমিই হয়েছিলাম। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও আমার দেয়া। মিতু তা ভুলে গেছে। তার আচরণ ভাল না। সে কারণে যশোরে আসি মিতুর সাথে দেখা করে কথা বলার জন্য। কিন্তু সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে আসে। তার কোন অশ্লীল ছবি আমার মোবাইলে নেই। মিতু এখন অন্য যুবকের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। তিনি মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড পুলিশে দিয়ে তা পরীক্ষা করে দেখতে বলেন।

মিতু ক্ষোভের সাথে বলেছেন, আমার সাথে ওর (প্লাবনকে দেখিয়ে) কোনো সম্পর্ক নেই। এক সময় পরিচয় হয়েছিল ঢাকায়। ফেসবুকে বন্ধুত্ব আছে। তখন থেকে আমার পিছু নিয়েছে। এখন যশোরে এসে বিরক্ত করছে।

কোতয়ালি থানার ডিউটি অফিসার এসআই হায়াৎ মাহমুদ জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল দুইজন আলাদা রিকসায় করে থানার সামনে নামেন। এরপর থানায় ঢুকে মেয়েটি আগে অভিযোগ করেন। কিন্তু পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটি অভিযোগ মিথ্যা বললে তাদের সাথে কথা বলা হয়। সব কথা শুনে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এখন তাদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি এবং এক অপরের প্রতি অবিশ্বাস জন্মেছে। আবার দুইজনের অভিমানও হতে পারে। তবে মেয়েটিকে বোঝানো হয়েছে যে, ‘আপনার ক্ষতি হতে পারে এক কোনো কিছু ভবিষ্যতে মনে হলে লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন।’ পরে দুইজনই থানা থেকে বের হয়ে যান।