মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হলো সাজানো সংসার

মাগুরা প্রতিনিধি >
নিজেই প্রাইভেটকার চালাচ্ছিলেন মহসিন সরদার । পাশে বসেছিলেন স্ত্রী রিনা খাতুন। পিছনের সিটে বসা কন্যা মাহিমা (১৫) ও ভাইয়ের ছেলে হাসান (১৬)। অনেকটা রিলাক্স মুডেই যাচ্ছিলেন ঢাকার বাসায়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগেই মুহূর্তের মধ্যেই প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একটি সাজানো ফুলের বাগান ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। পিতামাতা হারা হলো শিশু মাহিমা। চোখের সামনেই পিতা মহসিন সরদার (৫০) ও মা রিনা খাতুনকে (৩৮) হারিয়ে নির্বাক শিশু।
শনিবার বিকেলে মাগুরা-যশোর মহাসড়কের শিমুলিয়া এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা যশোর জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপুর বোন ও ভগ্নিপতি। মহসিন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির খুলনা বিভাগীয় সহসভাপতি, যশোর জেলার সাধারণ সম্পাদক ও জনতা লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী।
মাগুরা সদর থানার এসআই ফরিদ জানান, শনিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বৃষ্টির মধ্যে মহসিন নিজেই প্রাইভেটকারটি চালিয়ে যশোর থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন। প্রাইভেট কারটি মাগুরা-যশোর সড়কের শিমুলিয়া নামক স্থানে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সাথে ধাক্কা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে প্রাইভেটকারে থাকা মহসিন ,তার স্ত্রী রিনা খাতুন,কন্যা মাহিমা ও ভাতিজা হাসান মারাত্মক আহত হয় । তাদের মাগুরা সদর হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত ডাক্তার মহসিন ও রিনা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন । আহত শিশু মাহিমা ও হাসানকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, দুইজনের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই যশোরের বাড়িতে আনা হয়েছে। আহত দুই শিশুকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনার খবরে যশোর থেকে মাহমুদ হাসান বিপুসহ আত্বীয় স্বজনরা মাগুরায় ছুটে যান। সেখানে পৌর মেয়র খুরশিদ হায়দার টুটুল ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে যশোরে রওনা হন।