সুদূর ৫শ’ কিলোমিটার দূরের চোর ঘটনা ঘটালো প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্সে, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর আর সুদূর চট্টগ্রাম। ব্যবধান কমপক্ষে ৫শ’ কিলোমিটারের। সেই দূরের চোরচক্র যশোর শহরের চৌরাস্তায় খোদ কোতয়ালি থানার পাশের প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্সে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটালো। তাও আবার দিনেদুপুরে। এ দুঃসাহসিক ঘটনার নায়কদের শনাক্ত করে ফেলল যশোর ডিবি। আটক করা হলো চারজনকে। ১৫ দিন অক্লান্ত পরিশ্রম ও উন্নত তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে, দাবি পুলিশের। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া দেড়লাখ টাকা, ৩ ভরি ৭ আনা ওজনের সোনার গহনা ও সোনা মাপার যন্ত্র। শনিবার সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিং এ তথ্য জানানো হয়।
আটক চারজন হলো, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ইউসুফ নগর গ্রামের রিয়াজের ছেলে সুমন, তারু মিয়ার ছেলে উজ্জল, রাঙ্গামাটির বেদবুনিয়া থানার রাঙ্গীপাড়ার আব্দুল আউয়ালের ছেলে আব্দুর রহিম বাদশা এবং চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগর এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে সোহেলে ওরফে মোটা সোহেল। বর্তমানে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার কুটি গ্রামে বসবাস। এই চারজনের মধ্যে রহিম বাদশা ও মোটা সোহেল যশোরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেন জানিয়েছেন, দুইজন আদালতে চুরির কথা স্বীকার করেছে।
শনিবার সকালে প্রেসব্রিফিং এ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন, চোর গ্রুপে ছিল মোট ৯জন। ওই চারজন ছাড়াও রুবেল, ছোট বাদশা, বাবু, আলাউদ্দিন, বড় বাদশা ছিল। এ গ্রুপটি দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে দিনে দুপুরে চুরি করে থাকে। সোনার দোকান, বিকাশের দোকান, মোবাইলের দোকান এদের প্রধান টার্গেট। এ দলের প্রধান হলো কুমিল্লার দ্বেবিদার উপজেলার বালাহাট গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ। চুরির কাজে এরা শাল, চাদর বা ত্রিপল ব্যবহার করে থাকে। ছাতার ব্যবহারও করে থাকে। চোখের পলকে দোকান থেকে হাতিয়ে নেয় মূল্যবান জিনিসপত্র। যশোরে সোনার দোকানের সামনে রোদ-বৃষ্টির দুপুরে ত্রিপল ভাঁজ করার অভিনয় করে তার আড়ালে নিমিষে কার্টার দিয়ে প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্সের ৬টি তালা কেটে ফেলে এবং মাত্র নয় মিনিটি হাতিয়ে নেয়া হয় নগদ আড়াই লাখ টাকা ও ৩৭ ভরি সোনার গহনা।
তিনি জানান, চোরেরা স্বীকার করেছে-কুমিল্লা থেকে ২৪ ইঞ্চি কার্টার কিনে নিয়ে আসে। আর কেটে ফেলা তালা কুমিল্লার একটি নদীতে ফেলে দেয়। প্রধান চোর আব্দুল্লাহ মাস তিনের আগে যশোরে আসে এবং সে সোনার দোকানটি রেকি করে যায়। কি ভাবে দোকানে ঢোকা হবে এবং তা চুরি করা হবে সব কৌশল সে দিয়ে দেয়। অবশ্য চুরির দিন সে ছিল না। সোনার দোকানের মালিক কখন দোকান বন্ধ করে বাড়ি যায় তাও আমলে নেয়। ঘটনার সময় দোকান মালিক অমিত রায় আনন্দ যখন বাড়ি যাচ্ছিলেন সে সময় তার পিছু নেয় একজন। বাড়ি পর্যন্ত পিছু নিয়ে মোবাইল ফোনে তা দোকানের সামনে থাকা সদস্যদের জানিয়ে দেয়া হয়।
এ চক্রের বেশির ভাগ সদস্যের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরির মামলা আছে। ঝিনাইদহ, গাজীপুর, সিলেট, নরসিংদি, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় এরা চুরি করেছে। আটক সোহেলের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের শাহপরান থানায় চুরির মামলা আছে। পরিদর্শক আল মামুনের নেতৃত্বে যশোর ডিবির একটি দল ১১ জুলাই বিকেলে চট্রগ্রামের বহাদ্দারহাট থেকে আব্দুর রহিম বাদশা ও সন্ধ্যায় বাকলিয়া থানা হতে সোহেলকে আটক করা হয়। একইসাথে সোহেলের বাড়ির আলমারি থেকে চুরি যাওয়া দেড় লাখ টাকা, ৩ ভরি ৭ আনা সোনা ও সোনা মাপার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরদির ভোরে কুমিল্লার মুরাদনগর থানা থেকে উজ্জ্বল ও সুমনকে আটক করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই বাকিদের আটক করা হবে বলে প্রেসব্রিফিং এ জানানো হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আগেই আটক যশোরের রিকসাচালক আব্দুল হালিম এবং জয় স্টোর নামক ফটোকপি ও স্টেশনারীর দোকানদার প্রদীপ কুমারের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুন বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টার ১ মিনিটের মধ্যে এ চক্রটি দোকান থেকে ৪৭ ভরি সোনার গহনা এবং আড়াই লাখ টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছেন যশোর ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেন।