সাংবাদিক হত্যার বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের ব্যর্থতা : ইকবাল সোবহান চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, যশোরের শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল হত্যার বিচার হয়নি ১৯ বছরেও। এতে ক্ষুব্ধ, স্বজন, সাংবাদিক সমাজ। শামছুর রহমান কেবল, সাগর-রুনির মত সাংবাদিকদের হত্যার বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।
মঙ্গলবার দুপুরে যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে) আয়োজিত শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল হত্যার ১৯তম বার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করছি। কিন্তু বিচার আমরা পাইনি। যে সমাজ, রাষ্ট্রে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না, সেখানে সাহসী সাংবাদিকতার সক্ষমতা দেখানো সম্ভব নয়। সাহসী সাংবাদিকতা না থাকলে গণতন্ত্রের বিকাশ হবে না। সাহসী সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্র একইসূত্রে গাঁথা।
তিনি আরো বলেন, দেশে সামরিক শাসন, স্বৈরশাসন ছিল। পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। গণতন্ত্রেরও বিকাশে সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হবে।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সাগর-রুনি হত্যার তদন্তের দায়িত্ব যাদের দেয়া হয়েছে তারা সময়ক্ষেপণ করেছে। ৯০বার সময় নিয়েছে। শামছুর রহমান কেবল হত্যার বিচারিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা। এটা বিচার বিভাগের নিষ্ক্রিয়তা, নাকি সরকারের ব্যর্থতা; সে প্রশ্ন থেকে যায়।
তিনি বলেন, শামছুর রহমান কেবল সাহসী সাংবাদিকতার জন্যই প্রাণ দিয়েছেন। কোনো ব্যক্তিগত কারণে নয়। দীর্ঘদিনেও হত্যার বিচার না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজ ক্ষুব্ধ।
যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন জেইউজে সভাপতি সাজেদ রহমান।
সভায় বিশেষ অতিথি বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ বলেন, আদর্শিক সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও শামছুর রহমান কেবল হত্যার বিচার হলো না। এটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। আজকের পর থেকে আর নীরব প্রতিবাদ নয়। বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্র তৈরিতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বিচার নিশ্চিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
জেইউজে সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলনের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বিএফইউজে সহসভাপতি মনোতোষ বসু, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাবেক সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, সিনিয়র সাংবাদিক কবি ফখরে আলম, বিএফইউজে যুগ্মমহাসচিব সাকিরুল কবীর রিটন। উপস্থিত ছিলেন শহীদ সাংবাদিকের সহধর্মিণী সেলিনা আক্তার লাকী ও ছোট মেয়ে প্রণতি রহমান।
এর আগে সাংবাদিকরা কালো ব্যাচধারণ ও শহরের কারবালায় শামছুর রহমান কেবলের কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। বিএফইউজে, প্রেসক্লাব, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রেসক্লাবের আয়োজনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ডিহি (শার্শা) প্রতিনিধি জানান, শার্শার ডিহিতে অকুতোভয় কলমযোদ্ধা, দৈনিক জনকন্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি বিবিসি সংবাদদাতা প্রথিতযশা সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবলের ১৯তম হত্যাবার্ষিকী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে ডিহি ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরীতে এ হত্যাবার্ষিকী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মাওলানা ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা ডেপুটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাসির উদ্দীন, ডিহি ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন আলী, পাকশিয়া আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নূর হোসেন, ডিহি পাবলিক লাইব্রেরীর নির্বাহী সদস্য ডা. আ. রব, পাকশিয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাসেল মোস্তফা প্রমুখ।