৪ কোটি টাকা নিয়ে উধাও বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর

::শাকিলা ইসলাম জুঁই, সাতক্ষীরা::
এক হাজার এজেন্টের চার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে ‘বিকাশ’ এর সাতক্ষীরা জেলা ডিস্ট্রিবিউটর ফারুক হোসেন। এ ঘটনায় বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর অফিসের ম্যানেজার ইব্রাহীম, স্টাফ বিশ্বজিত ও মো. মাসুম বিল্লাহকে আটক করেছে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ।

এদিকে বিকাশ কোম্পানির জেলা ডিস্ট্রিবিউটর ফারুক হোসেন আত্মগোপনের পর থেকে এজেন্টদের মাথায় হাত উঠেছে। এখন তারা হায় হায় করছেন।

খোঁজখবর নিয়ে জানাগছে, সোমবার সকাল থেকে জেলার এজেন্টরা তার খোঁজ পাচ্ছেন না। তাদের সব ফোন বন্ধ। তার অফিসে তালা, বাড়িতেও ঝুলছে তালা।

সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে বিকাশ এজেন্টরা অভিযোগ করে বলেন, অনেকদিন ধরে আমরা আমাদের চাহিদা মতো টাকা পায় না।

তারা বলেন, আমাদের জমা থেকে তিন লাখ টাকা চাইলে দেয়া হয় এক লাখ। এভাবে বেশ কিছুদিন যাবৎ তাদের ব্যবসাও বাধার মুখে পড়তে থাকে।

তারা জানান, এ নিয়ে প্রায়ই তাদের সাথে ঝগড়া হয়ে আসছে। এজেন্টদের অভিযোগ বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর আমাদের টাকা হাতিয়ে নিয়ে হুন্ডির কাজে ব্যবহার করছেন। লাভজনক কোনো গোপন ব্যবসার সাথেও জড়িয়ে গেছেন তারা।

অভিযোগ করে এজেন্টরা বলেন, বিকাশ কর্মকর্তারা তাদের টাকা হাতে পেলেও ছাড়ছেন খুব কম টাকা। এতে আমাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

১৫ জুলাই সোমবার সকাল থেকে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর ফারুক হোসেন ও তার অফিসের লোকজন অফিস থেকে উধাও হয়। তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তারা বলেন, বিভাগীয় শহর খুলনায় অবস্থানরত জোনাল অফিসের লোকজনও এজেন্টদের ফোন ধরছেন না।

তারা অভিযোগ করে বলেন, সোমবার সকালে ডিস্ট্রিবিউটর ফারুক তাদের ফোন করে জানান ‘যার যা টাকা দরকার সকাল দশটার আগেই আমার নম্বরে পাঠাতে হবে। বিষয়টি জরুরি’।

এজেন্টরা বলেন, আমরা সকালেই টাকা ঢুকানোর কিছুক্ষণ পর জানতে পারি ফারুক প্রতারণা করেছে। সে তার লোকজন নিয়ে পালিয়ে গেছে। ফলে তাদের টাকা বিকাশ ডিলারের কাছে জমা থাকলেও তারা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। সাথে সাথে বিষয়টি তারা পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই তরিকুল ইসলাম বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে যেয়ে তিনজনকে খুঁজে পান।

তিনি জানান, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অপরদিকে এজেন্টরা এ ব্যাপারে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ ব্যাপারে বিকাশ এর জোনাল অফিস খুলনায় ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি।

এদিকে আদর এন্টারপ্রাইজ, সোহেল এন্টারপ্রাইজ, বুলবুল টেলিকম, মোবাইল প্যালেস, আহানাজ ফটো, কেসিও ওয়াচ, জয়া এন্টারপ্রাইজ, খোকন বুক ডিপো, রমজান টেলিকম, রাজু টেলিকম, রাজধানী এন্টারপ্রাইজ, জননী স্টোর, একে ইলেকট্রনিকস, তোহা মোবাইল, আরজু এন্টারপ্রাইজ, সাদিয়া এন্টারপ্রাইজ, সুমাইয়া টেলিকম, মামুনএন্টারপ্রাইজ, রেজা এন্টারপ্রাইজ, তানভির স্টোর ও স্বপন এন্টার প্রাইজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগ করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনা সত্য। অভিযোগকারী বিভিন্ন এজেন্ট লিখিত ভাবে আবেদন করবে বলে জানিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে রাতেই মামলা রেকর্ড হবে।