কলেজ পড়ুয়া স্ত্রীর সাথে জোরাজুরি, স্বামীকে গণপিটুনি

::এম আলমগীর, বাঁকড়া (ঝিকরগাছা)::
কলেজ পড়ুয়া স্ত্রীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে এক স্বামী। বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ডিগ্রী কলেজের সামনে।

উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত আবুল ইসলামের ছেলে প্রবাসী মনিরুল ইসলাম মণিরামপুর উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে বাঁকড়া ডিগ্রী কলেজের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মুন্নী খাতুনকে বিয়ে করে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি। তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব চলছিল। মনিরুল ইসলামের সাথে সংসার করবে না বলে জানিয়ে দেয় মুন্নি। এমতাবস্থায় বুধবার মনিরুল ইসলাম তার স্ত্রী মুন্নী খাতুনকে জোর করে টেনে হেঁচড়ে মোটরসাইকেলে তোলার চেষ্টা করলে কলেজের শিক্ষার্থীরা তাকে বাধা দেয়। মনিরুল কলেজ শিক্ষার্থীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর শুরু করলে তাকে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে নেয়া হয়।

এ সময় সে কলেজ অধ্যক্ষের রুমেও খারাপ ব্যবহার করে। তখন শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গণধোলাই দেয়। পরে বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ ও এসআই মাহফুজ আহমেদ মনিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে বাঁকড়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সামছুর রহমান জানান, কলেজে কোনো মেয়ে আসলে সে কারও স্ত্রী না। সে কলেজের শিক্ষার্থী। তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া একটা জঘন্য অপরাধ। এ অপরাধের বিচার হওয়া উচিত। আমরা বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ করেছি।

বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ জানান, গণধোলাইয়ে মনিরুল ব্যাপকভাবে আহত হয়েছে। তাকে তার পরিবারের কাছে দেয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। সে সুস্থ হলে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করবে।