কেশবপুরে স্ত্রীর বােনকে নিয়ে উধাও শিক্ষক জাকারিয়া বরখাস্ত

প্রতীকী ছবি

::সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর::
কেশবপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক হোসেন জাকারিয়া স্ত্রীর ছোট বোনকে নিয়ে উধাও হয়েছে। মেয়ের পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যানেজিং কমিটি বালিকা বিদ্যালয় থেকে জাকারিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

ম্যানেজিং কমিটির কাছে দেয়া অভিযোগে উলে¬খ রয়েছে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের মেজ কন্যা রুবিনা পারভিনের সাথে কেশবপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল বিভাগের পরিদর্শক ফারুক হোসেন ওরফে জাকারিয়ার বিয়ে হয়। তাদের ৮ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আব্দুল হামিদ ভালুকঘর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তার মেজ মেয়ে রুবিনা পারভিন সাতবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়ে মনমালিন্য লেগেই থাকত। এমনকি জাকারিয়া তার স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। এরমধ্যে জাকারিয়া তার স্ত্রীল ছোট বোন হাসনাহেনার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি লোক জানাজানির ভয়ে ২০১৫ সালের খোপদহি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে বাহারুল ইসলামের সাথে হাসনাহেনার বিয়ে দেয় পরিবার। হাসনাহেনা পাটকেলঘাটা কুমুরিয়া ডিগ্রী কলেজে পড়ালেখার কারণে ওখানে মেসে থাকতো মেসে থাকায় জাকারিয়া গোপনে তার সাথে যোগাযোগ করতো। দফায় দফায় শালিকাকে নিয়ে উধাও হন তিনি।

মাস্টার আব্দুল হামিদ জানান, ৩ বার বহু কষ্টের পর তার মেয়েকে উদ্ধার করে মীমাংসা করা হয়। প্রথম দফা স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান, ২য় দফা সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন ও ৩য় দফা কেশবপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসা করেন। এরপরও জাকারিয়া থেমে নেই। সবশেষে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সন্তানসহ তার পিতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং শালিকাকে নিয়ে উধাও হয়। এ বিষয়টি নিয়ে মাস্টার আব্দুল হামিদ ও তার কন্যা রুবিনা পারভিন ও ছোট জামাই বাহারুল ইসলাম পৃথক পৃথকভাবে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকারিয়াকে নোটিশের মাধ্যমে তার দপ্তরে শুনানি পূর্বক প্রথম স্ত্রীকে আগামী ২ মাসের মধ্যে ৫ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ দেন এবং জাকারিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর প্রেরণ করেন। বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গত ১২ জুলাই এক সভার মাধ্যমে জাকারিয়াকে উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

এ ব্যাপারে বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান জানান, বেসরকারি শিক্ষক চাকরির বিধির ভিত্তিতে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ৩ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। ফারুক হোসেন জাকারিয়ার কাছে মোবাইলে কোনো মন্তব্য না করে কৌশলে এড়িয়ে যান।

মাস্টার আব্দুল হামিদ জানান, আমার ছোট মেয়ে কোথায় আছে আমরা কেউ জানিনা। তবে জাকারিয়ার প্রথম স্ত্রী ও সন্তান আমার বাড়িতে থেকে অর্থ কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কারণ আমার মেয়ে বেতন পান ১৬ হাজার টাকা অথচ ৬ লাখ টাকার লোনের কিস্তি দিতে হয় ১৮ হাজার টাকা। প্রতিমাসে দেনার বোঝা বাড়ছে। কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে আমরা বড় কষ্টে আছি।