দারিদ্র্য হার মেনেছে মহেশপুরের ৭ মেধাবীর কাছে

::নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশপুর::
পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যের জমিতে কামলার কাজ করেছেন শাহিন আলম আর ছামসুল হক। সাইফুল্লাহ খালিদ আর আসাদুল্লাহ গালীব তারা যমজ দুইভাই। তারাও পরের ক্ষেতে কামলা দিতেন। আনিকা ইয়াসমিন, শামীমা ইয়াসমিন ও কবুরা খাতুনের বাবারাও অন্যের জমিতে কাজ করেই সংসার চালান। এ অদম্য মেধাবী ৭ শিক্ষার্থী ঝিনাইদহ মহেশপুরের শহীদুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের এ ফলাফল গোটা এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, এ অদম্য মেধাবীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জল করেছে।

শহিদুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল আলম জানান, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ২৫৮ জন নিবন্ধিত হন, কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেন ২৪৮ জন। যাদের সকলেই পাশ করেছেন। এর মধ্যে ৭ জন ছেলে-মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তারা অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এদের মধ্যে চারজন ছাত্র আছেন যারা নিজেরাই পরের জমিতে কামলার কাজ করেন। আর তিনটি মেয়ে আছেন, যাদের বাবারা অন্যের জমিতে কামলা খাটেন। এ সব হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েদের ফলাফলে শুধু তারা নয়, গোটা এলাকার মানুষ খুশি। আর্থিক কষ্টের সঙ্গে লড়াই করে তারা সফলতা পেয়েছেন।

মহেশপুর উপজেলার ভোলাডাঙ্গা গ্রামের আছের উদ্দিনের ছেলে শাহিন আলম (১৮) জানান, পরিবারের পক্ষে তার পড়ার খরচ জোটানো সম্ভব হয়নি। নিজেই কাজ করে খরচ জুটিয়েছেন।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা জানান, তাদের কলেজের ইংরেজি শিক্ষক এএম ইদ্রিস আলী তাদের পড়ালেখার বিষয়ে খুব সহযোগিতা করেছেন। তিনি এ সব মেধাবীদের টাকা ছাড়াই পড়িয়েছেন।

শিক্ষার্থী কবুরা খাতুন জানান, তার বাবা কলেজে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন যে ১০ টি করে টাকার প্রয়োজন হতো, তাও দিতে পারতেন না। যে কারনে তিনি সপ্তাহে ১ থেকে ২ দিন ক্লাস করতেন। চার কিলোমিটার পাঁয়ে হেটে কলেজে যেতে হতো তাকে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল মালেক জানান, এ সব সন্তানেরা তাদের গর্ব। এরা যে ফল নিয়ে এসেছে তাতে গোটা এলাকার মানুষ খুশি।

স্পন্দন/আরএইচ