ভালোবেসে প্রতারিত অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর মৃত্যু, ধর্ষণ মামলায় আটক

প্রতীকী ছবি

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
ভালোবেসে প্রতারিত হয়ে জীবন দিলেন যশোরের কলেজছাত্রী মাহমুদা ঐশী (১৯)। তিনি যশোর সরকারি এমএম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং নতুন উপশহর ডি ব্লকের ৩৭ নম্বর বাড়ির ভাড়াটিয়া আসাদুজ্জামানের মেয়ে।

ঐশীর পিতার দাবি বিয়ের প্রলোভনে তাকে ধর্ষণ করার ফলে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ঐশী। পরে গর্ভপাত করানোর জন্য ওষুধ খাওয়ানোর ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় উপশহর এস ব্লকের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাড়ির মালিক সৈয়দ রওশন আলীর ছেলে সৈয়দ শামীমকে দায়ী করেছেন। একই সাথে সহযোগিতার অভিযোগে শামীমের অপর দুই ভাই নাসিম ও নাঈমের নাম উল্লেখ করে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ নাসিমকে আটক করেছে।

কোতয়ালি থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নাসিম ও নাঈমের সাথে ঐশী একই কলেজে লেখাপড়া করে। তাদের মাধ্যম দিয়ে বড়ভাই সৈয়দ শামীমের সাথে পরিচয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তার সাথে ঐশীর কথাবার্তা চলতো। একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করে। গত ৩ মে ঐশীর কলেজ ছুটি হলে তাকে ফুঁসলিয়ে শামীম তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এভাবে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক হয়েছে।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১২ জুলাই ঐশী শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু সে কাউকে কিছু বলতে চায় না। ১৭ জুলাই খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যশোরের কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানা যায় ঐশী আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ঐশীর ছোট মা জনি বেগম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে পরীক্ষা করে দেখা গেছে তার পেটের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থা রয়েছে। ডাক্তার নার্গিস আক্তার জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের জন্য পরামর্শ দেন। তাকে রাতেই কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১২টার দিকে তার অপারেশন হয়। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। রাতেই তাকে পাশেই ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আইসিইউতে ঐশী মারা যান। সকালে তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।

তিনি আরো জানিয়েছেন, ঐশী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিয়ের জন্য শামীমকে চাপ প্রয়োগ করে। ঐশীর মোবাইল ফোনের ম্যাসেজে তা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু শামীম বিয়ে না করার জন্য টালবাহানা করতে থাকে। গর্ভপাতের জন্য শামীম কোনো ওষুধ খাইয়েছে কিনা তা তিনি বলতে পারেননি।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কাজল মল্লিক জানান, ঐশী আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল এটা সঠিক। তবে তার জরায়ুতে সমস্যা ছিল। বাচ্চা যেখানে ধারণ করার কথা সেখানে না করে পাশের টিউবে (নালীতে) রয়েছে। ফলে নালী বড় হয়ে তা ফেটে যায়। এ ধরনের সমস্যা হলে কোনো নারী সন্তান জন্ম দিতে পারে না। বড় হওয়ার আগেই অপারেশন না করলে মায়ের মৃত্যু হয়। এ ক্ষেত্রে তাই হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে পরিবারের লোকজন বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। ওই মুহূর্তে ঐশীর বাবা ও মা শাহানারা কোনো কথা বলতে পারছিলেন না।

উল্লেখ্য, ঐশীর বাবার স্ত্রী দুইজন। সেখানে সাংবাদিকদের সাথে ঐশীর ছোট মা জনি বেগমের সাথে কথা হয়েছিল।

এ বিষয়ে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ফারুক হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শামীমকে আটক করা যায়নি। তবে তার ছোট ভাই নাসিমকে আটক করা হয়েছে। সে এ মামলার দুই নম্বর আসামি।

এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শামসুদ্দোহা বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতেই মামলা রেকর্ড করে। এখন মৃত্যু হওয়ায় নতুন ধারা যোগ হবে। আর মূল আসামিকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।

স্পন্দন/আরএইচ