পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কর্মবিরতি: ঝিকরগাছায় জনদুর্ভোগ অব্যাহত

::ঝিকরগাছা প্রতিনিধি::
যশোরের ঝিকরগাছা পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কর্মবিরতিতে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। চাকরি স্থায়ীকরণ ও পেনশন-ভাতা সরকারি তহবিল থেকে প্রদানের দাবিতে ১৪ জুলাই থেকে দেশব্যাপী পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ফলে ঝিকরগাছা পৌর এলাকার নাগরিক সেবার চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের ৩২৭টি পৌরসভার ৩২ হাজার ৫০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিন্ন দাবি আদায়ে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্ত্বরে কর্মবিরতীতে অবস্থান গ্রহণ করে চলেছেন।

এদিকে, ঝিকরগাছা পৌর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় নাগরিকদের দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পৌর নাগরিকদের প্রত্যয়নপত্র, জন্ম/মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশ কায়েম সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা স্ট্রিটলাইট বন্ধ থাকায় রাতে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে, চুরি ডাকাতি, ছিনতাইয়েরমত অনাকাঙ্খিত ঘটনার আশংকা করছেন পৌরবাসী।
এ ব্যাপারে পৌরমেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেভাবে পরিশ্রম করেন অথচ নির্দিষ্ট সময়ে আমরা তাদের হাতে বেতন-ভাতা তুলে দিতে পারি না।

‘আমরা আশা করবো যেহেতু দেশব্যাপী সকল পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের দাবির প্রতি সরকার একটি সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে তাদের বেতন-ভাতা প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবির বিষয়টি অবশ্যই মানবিক বিবেচনার দাবি রাখে’।

তিনি নাগরিক সেবা ব্যহত হওয়ার বিষয়ে বলেন, সাময়িক অসুবিধার জন্য পৌরবাসীর প্রতি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি।

এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহা আলম মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান টিটো বলেন, আমাদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিসহ সকল বিষয়ে মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। অথচ আমাদের প্রাপ্য বেতন ভাতা সুবিধাদির জন্য মেয়র মহোদয়ের মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হয়। তারপরও বেতন ভাতা সঠিক সময়ে আমরা পাই না। এটা দুর্ভাগ্যজনক ও অমানবিক। অথচ আমরা চাকরিবিধি মোতাবেক নাগরিক সেবা প্রদানে সবসময়ই আন্তরিক। আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় অ্যাসোসিয়েশনে সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো গত্যান্তর নেই।