বৃষ্টির জন্য হাহাকার: আষাঢ়-শ্রাবণেও কৃষকের ভরসা স্যালোমেশিন

::এম আলমগীর, বাঁকড়া (ঝিকরগাছা)::
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া এলাকায় বৃষ্টির অভাবে চলতি আমন ধান রোপন মৌসুমে কৃষক নাজেহাল হয়ে পড়ছেন। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেও বৃষ্টির পরিবর্তে প্রচণ্ড রোদ আর খরায় ধানের চারা রোপন করতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে স্যালোমেশিন থেকে ঘন্টা চুক্তি পানি নিয়ে ধান রোপন করছেন তারা।

শনিবার সকালে উপজেলার বাঁকড়া এলাকার নিশ্চিন্তপুর, কানাইরালী, সাদিপুর, দিঘড়ী, সোনাকুড়, হাজিরবাগ, শিত্তরদাহ, বল্লা গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, মাঠে ধান রোপণের জন্য পর্যাপ্ত পানি নেই। পানির জন্য স্যালোমেশিন চালিয়ে পানি তুলতে হচ্ছে। স্যালোমেশিন মালিকদের নিকট থেকে ১২০-১৬০ টাকা ঘন্টা পানি ক্রয় করতে হচ্ছে। ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এক দিকে কৃষি পণ্যের দাম কম, তারপরও যদি শুরুতেই পানি ক্রয় করে ধান রোপন করতে হয় তাহলে কৃষকের লোকসানের পরিমাণটা অনেক গুন বৃদ্ধি পাবে বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।

কথা হয় নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক শিমুল কবির সাহাঙ্গীরের সঙ্গে। তিনি জানান, কৃষক ধান চাষের মৌসুম পায় তিনটি। ইরি, আউস ও আমন। ইরি চাষ করতে হয় শীতের সময়। তাই ইরি চাষ করতে হয় স্যালোম্যাশিনের পানি দিয়ে। ফলে খরচ হয় অনেক বেশি। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আউস চাষ এখন আর হয় না। তাই লাভের আশা করতে হয় আমন চাষে। কিন্তু চলতি বছরে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেও কোনো বৃষ্টি নেই। ফলে ধান রোপণে খুব বিপদে আছি।

একই গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম, ফজর আলী, মন্টু মিয়া, ইব্রাহিম হোসেন ও বাবুল আক্তার জানান, কৃষি পণ্যের দাম কম, বিশেষ করে ধানের। তারপরও যদি পানি কিনে ধান রোপন করতে হয়, তাহলে কৃষকের লোকসানের পরিমাণ অনেক বেশি হবে।

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার দিপঙ্কর দাশ বলেন, আকাশের পানি আর স্যালোমেশিনের পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে কৃষকের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে। চলতি বছরে উপজেলায় আউস ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার হেক্টর আর আমন চাষের ১৭ হাজার হেক্টর। আউস চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। আশা করি আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হবে।

স্পন্দন/আরএইচ