এক যুগ পর স্ত্রী পাচ্ছেন হারিয়ে যাওয়া স্বামীর ডেথ ডিক্লিয়ারেশন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স নায়েক আব্দুল হানিফ মোল্লার ডেথ ডিক্লিয়ারেশন ঘোষণা করেছে যশোরের একটি আদালত। রোববার সদর সহকারী জজ আদালতের বিচারক তরুন বাছাড় এক আদেশে এ ঘোষণা প্রদান করেন। আবু হানিফ ২০০৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নিখোঁজ হয়েছিলেন।

মামলার বাদী ফজিলা বেগমের আইনজীবী জানিয়েছেন, এ রায়ের মাধ্যমে আদালত হানিফ মোল্লাকে মৃত বলে ঘোষণা করেছেন। এখন এই ডিক্রির বুনিয়াদে বাদীকে তার স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

যশোর শহরের রায়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে কোনোরকমে মাথা গুঁজে বাস করেন নিখোঁজ আব্দুল হানিফের স্ত্রী ফজিলা। তার স্বামী আব্দুল হানিফ মোল্লা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ গ্রামের মৃত কাদের মোল্লার ছেলে। সেনাবাহিনীর ল্যান্সনায়েক পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি ঢাকায় ট্যাক্সি ক্যাব চালাতেন। আর চার ছেলে মেয়ে নিয়ে যশোরে বসবাস করতেন ফজিলা।

২০০৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ট্যাক্সি ক্যাব নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল হানিফ। এরপর আর তার কোনো সন্ধান মেলেনি। দুইদিন পর ট্যাক্সি ক্যাবটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ঢাকার রাজমনি সিনেমা হলের পিছনে পাওয়া যায়। হানিফ মোল্লা নিখোঁজের ঘটনায় লিঙ্কস ক্যাব (বিডি)’র কর্মকর্তা ওবায়দুল হক ২০০৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কাফরুল থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নম্বর-১২৬৪।

২০০৭ সালে নিখোঁজ স্বামী আব্দুল হানিফ মোল্লার সন্ধানে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন স্ত্রী ফজিলা বেগম। স্বামী হারিয়ে অর্থকষ্টকে সঙ্গী করে খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের নিয়ে কোনোরকমে থেকেছেন। অবশেষে বুঝেছেন স্বামীকে হয়তো আর কোনোদিন খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই সন্তানদের মানুষ করতে স্বামীর পেনশন আর ব্যাংকের টাকা তুলতে ধর্ণা দেন ব্যাংকে আর স্বামীর কর্মস্থলে। কিন্তু সবার চাওয়া তার স্বামীর ‘ডেথ সার্টিফিকেট’। একযুগ ধরে এ ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য ঘুরে বেড়ানো ফজিলার পাশে এসে দাঁড়ায় যশোরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আব্দুল আউয়াল। যশোর সদর সহকারী জজ আদালতে মামলার ব্যবস্থা করে দেন।

২০১৯ সালের ২৫ মার্চ আব্দুল হানিফ মোল্লার ডেথ সার্টিফিকেট চেয়ে আদালতে মামলা করেন তার স্ত্রী ফজিলা। রোববার মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত ফজিলার স্বামীর ‘ডেথ ডিক্লিয়ারেশন’ ঘোষণার আদেশ দিয়েছেন।

স্পন্দন/আরএইচ