দোকান পাচ্ছেন ভৈরব নদের পাড় থেকে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা

ভৈরব নদের পার থেকে উচ্ছেদের পর দড়াটানা। ফাইল ছবি

:: মিরাজুল কবীর টিটো ::
চারমাস পর দুঃখ, দুর্দশা ও হতাশা দুর হচ্ছে যশোর দড়াটানা ভৈরব নদের পাড় থেকে উচ্ছেদ করা ব্যবসায়ীদের। অবশেষে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে তাদের দোকানের জায়গা মুসলিম একাডেমির পূর্ব ও উত্তর পাশে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রেজায়ে রাব্বি। খুব শিগগিরই তাদের দোকান নির্মাণ কাজ শুরু করবেন বলে দৈনিক স্পন্দনকে জানান ব্যবসায়ীরা। এ লক্ষ্যে শনিবার ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান তৈরির মাপজোকের লেখা তালিকা দেয়া হয়েছে।

ভৈরব নদ খনন কাজের জন্য গত ২৮ মার্চ ভৈরব নদের পাড় থেকে লাইব্রেরি লেপ-তোশকের দোকানসহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। দোকান উচ্ছেদের পর ব্যবসায়ীরা এখনও পর্যন্ত স্থায়ীভাবে তাদের ব্যবসা শুরু করতে পারেননি। দোকান পাওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসক ,উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপি প্রদানকালে সংশ্লিষ্টরা দোকান নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আসছিল। ২৭ মে যশোর জেলা কালেক্টরেট সভা কক্ষে ভৈরব পাড় থেকে দোকান উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল।

সভায় তিনি ব্যবসায়ীদের বলেছিলেন, তাদের দোকান নির্মাণের জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের পর তাদের দোকান নির্মাণের বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি দেয়া হবে। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল। সভার পর ব্যবসায়ীরা আশায় ছিলেন তারা কবে তাদের দোকান নির্মাণের জন্য জায়গা পাবেন।

অবশেষে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বদলি হয়ে চলে যাওয়ার আগে ২৯ জুন জমির বিষয়টি চূড়ান্ত করে যান বলে দৈনিক স্পন্দনকে জানান, জেলা পুস্তক, প্রকাশনা ও বিক্রেতা সমিতির অর্থ সম্পাদক জসিম উদ্দীন। তারা দোকান নির্মাণ করবেন মুসলিম একাডেমি স্কুলের পূর্ব ও উত্তর পাশে। দোকান নির্মাণের জন্য বিদ্যালয় ফান্ডে ব্যবসায়ীদের ফেরত যোগ্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। আর নিজ খরচে তাদের দোকান নির্মাণ করে নিতে হবে। গতকাল ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান তৈরির মাপ লেখা তালিকা দেয়া হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৫ স্কয়ার ফিটের দোকান তৈরি করতে হবে। তবে এক একটি দোকান আলাদা আলাদা মাপে নির্মাণ করতে হবে। দোকান নির্মাণের লক্ষ্যে মুসলিম একাডেমি স্কুলের পূর্ব ও উত্তর পাশের গাছ কাটা চলছে।

জেলা পুস্তক, প্রকাশনা ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আবুল হাসান সরকার দৈনিক স্পন্দনকে জানান, এক জায়গায় দোকান নিয়ে সব ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারবো। এটাই লাভ।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রেজায়ে রাব্বি দৈনিক স্পন্দনকে জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দোকানদারদের জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। দোকানদাররা ভাড়া দেবেন প্রতিবর্গ ফুট ১৫ টাকা করে। এটা বিদ্যালয়ের জন্য লাভ হবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোহর আলী দৈনিক স্পন্দনকে জানান, বিদ্যালয়ের জায়গা জেলা প্রশাসকের। সেখান থেকে লিজ নিয়ে বিদ্যালয় করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক তার জায়গায় দোকান নির্মাণ করে দেবেন ব্যবসায়ীদের।