যশোর পালবাড়ি মোড়ে হামলায় দুই যুবক জখম

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
যশোর পালবাড়ি তেতুলতলা এলাকায় শনিবার রাতে সন্ত্রাসী হামলায় দুই যুবক জখম হওয়ার ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় পরস্পর বিরোধী অভিযোগও পাওয়া গেছে।

সদর উপজেলার বোলপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামে স্ত্রী শামীমা আক্তারের থানায় দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেন- বোলপুর গ্রামের বর্তমান পালবাড়ি নতুন খয়েরতরা এলাকার বায়েজীদ বোস্তমীর ছেলে রকি (৩০), ইসলাম মৃধার ছেলে নান্নু (৪০), বাবর মৃধার ছেলে প্রিন্স (২৬), বোলপুর গ্রামের ইসলাম মৃধার দুই ছেলে মহিন (৩৫) এবং সাদ্দাম (২৫)।

এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তার স্বামী রফিকুল ইসলাম একজন ঠিকাদার। আর আসামিরা তার প্রতিবেশী। পারিবারিক বিষয় নিয়ে আসামিদের সাথে তাদের শত্রুতা চলে আসছে। শনিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে আসামি রকি ও নান্নু ফোন করে জরুরি কথা আছে বলে রফিকুলকে পালবাড়ি তেতুলতলায় নিয়ে যায়। সেখানে টিটোর চালের দোকানের সামনে রফিকুল গেলে আসামিদের সাথে রফিকুলের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আগে থেকে নিয়ে আসা চাপাতি দিয়ে আসামিরা তার স্বামীকে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে। সে সময় ঠেকাতে যান পাগলাদহ গ্রামের ফারুক আহমেদের ছেলে মুরগী ব্যবসায়ী এজাজ আহমেদ (২৫)। তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।

পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত দুইজনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে আসামি বায়েজীদ বোস্তমীর স্ত্রী রশিদা বেগম কোতয়ালি থানায় দেয়া অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, বোলপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে রফিকুল ইসলাম একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির। তার দেবরের মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে তার ছেলেসহ চাচাতো ভাইদের মারপিট করার হুমকি দিয়ে আসছে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার ছেলে রকি পালবাড়ির মোড়ে মিন্টুর চায়ের দোকানে বসে ছিল। সে সময় রফিকুলসহ অজ্ঞাত ৪-৫জন সেখানে গিয়ে তাকে মারপিট করে। এ সময় রকির চিৎকারে তার চাচাতো ভাই নান্নু ও প্রিন্স ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও খুন জখমের হুমকি দেয় রফিকুল। রকিকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে জখম করে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। অবশ্য রাশিদার অভিযোগটি পুলিশ মামলা হিসেবে নেয়নি।

মামলার আসামি প্রিন্সের পিতা বাবর মৃধা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে পালবাড়ির মোড়ে যখন হট্টোগোল হয়; সে সময় প্রিন্স সেখান যায় এবং উভয় পক্ষকে ঠেকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু রফিকুল শক্রুতাবশত প্রিন্সকে মামলার আসামি করে।

মামলার তদন্তাকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার এসআই মোখলেছুজ্জামান জানিয়েছেন, একটি বিয়ে সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে মারামারি হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। এখন মারামারির সময় কে ছিল আর কে ছিল না তা আরো তদন্ত করে বলতে পারবো।

স্পন্দন/আরএইচ