ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি সাজু হত্যা মামলা জড়িত সন্দেহে কলেজছাত্র শান্ত আটক!

নিহত ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি সাজু

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
টিউটেরিয়াল পরীক্ষার হল থেকে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী জয়নাল হোসেন শান্তকে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ। সোমবার সকালে তাকে আটক করা হয়। শান্তু ওই কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং সদর উপজেলার পতেঙ্গালী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোছাদ্দেক হোসেন লিন্টুর ছেলে।

কি কারণে শান্তকে আটক করা হয়েছে এই বিষয় তার পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীরা কিছুই জানে না। এমনকি দুপুরে তারা প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে পুলিশি বাঁধার মুখে তা পণ্ড হয়ে যায়। পুলিশও এই বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ।

তবে পুলিশের একটি সূত্রে জানাগেছে, শহরের বিমান অফিস মোড়ে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি নয়ন চৌধুরী সাজু হত্যাকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে। এ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে কোনো না কোনো ভাবে জয়নালের নাম আশায় পুলিশ তাকে আটক করতে পারে।

সহপাঠীদের অভিযোগ, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজে টিউটোরিয়াল পরীক্ষা চলাকালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকে দু’জন তাকে তুলে নিয়ে যান। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত দিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। যারা তাকে নিয়ে গেছেন তাদের একজন এএসআই আল মিরাজ খান ও অপরজন কনস্টেবল ফারুক চৌধুরী। সহপাঠীরা পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ধরে নিয়ে যেতে বাঁধা দিলেও তাদের কথায় কর্ণপাত করা হয়নি। জয়নাল হোসেন শান্তকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তার খোঁজ করা হয় ডিবি পুলিশ, কোিতয়ালি থানাসহ বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তারা আরও জানান, জয়নাল হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে কোনো মামলা অথবা গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই। ফলে কী কারণে তাকে আটক করা হলো তা তারা জানতে চায়।

জয়নাল হোসেন শান্তর পিতা মোছাদ্দেক হোসেন লিল্টু বলেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। কী কারণে তাকে আটক করা হলো তা তিনি জানেন না।

এদিকে জয়নাল হোসেন শান্তর সন্ধানের দাবিতে বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনের জন্য এসেছিলেন তার কয়েকজন সহপাঠী। এ খবর জানতে পেরে পুলিশের একাধিক টিমে ক্লাবে অবস্থান নেয়। ফলে পুলিশের ভয়ে তারা সংবাদ সম্মেলন করতে পারেনি। তবে সহপাঠীদের পক্ষে একটি লিখিত কপি সংবাদিকদের মাঝে সরবরাহ করা হয়।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জয়নাল হোসেন শান্তকে আটক করেছেন কোতয়ালি থানার এএসআই আল মিরাজ খান।

তিনি জয়নাল হোসেন শান্তকে আটকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে আটক করা হয়েছে।

তবে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ১৩ মার্চ রাতে শহরের বিমান অফিস মোড়ে নয়ন চৌধুরী সাজু নামে একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রিকে চাঁদার দাবিতে পিটিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। নয়ন হোসেন সাজু শহরের মিশন পাড়ার জয়নাল চৌধুরী স্বপনের ছেলে। আহত সাজু পরদিন বিকেলে যশোর জেনারেল হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় নিহতের ভাই রতন চৌধুরী রাজু জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহমেদ জিসানসহ চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এই মামলার অপর আসামি হলো সদর উপজেলার হামিদপুরের খায়রুলের ছেলে পাভেল, শহরের ছোট খোকনের ছেলে রাব্বি ও খোকনের ছেলে রনি। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে শান্তের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য তাকে আটক করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে যশোর ডিবি পুলিশ।

স্পন্দন/আরএইচ