যশোরের বাজারে কৌশলে পঁচা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে!

:: মিরাজুল কবীর টিটো ::
আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত সাগরে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ। পাশাপাশি বাজারজাত পরিবহন ও বিক্রিও নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও যশোরের বাজাওে কৌশলে জাটকাসহ বরফ দিয়ে শক্ত করা পচা ইলিশ দেদারছে বিক্রি করা হচ্ছে। এ মাছ কিনে ক্রেতারা ঠকছে। কারণ শক্ত দেখে মাছ কেনার পর বাড়িতে নিয়ে কোটার সময় ধরা পড়ছে মাছটি পচা। যা খেয়ে ডায়রিয়া সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। কয়েকটি ক্রেতার সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

তবে বাজারে টাটকা মাছের সাথে বরফ দেয়া মাছ বিক্রি হচ্ছেও বলে জানান কয়েক মাছ ব্যবসায়ী ।

বাজার সূত্রে জানা গেছে,সাগরের ইলিশ মাছ আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত সরকারিভাবে ধরা নিষিদ্ধ ধরা নিষিদ্ধ। যে সব মাছ বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে চট্টগ্রামের নদীনালা থেকে ধরা। তবে নদী নালা থেকে যে পরিমাণ মাছ ধরা হচ্ছে সেটা বিক্রির জন্য যথেষ্ট নয়। তাই অনেক আগে ধরা নরম ও অর্ধগলি মাছ বরফ দিয়ে শক্ত করে রাখা থাকে। সেগুলো এ সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাজারে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। আর মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার পরও যেগুলো নদীনালা থেকে ধরেএনে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে তার দাম চড়া। তবে বরফ দিয়ে শক্ত করা পচা মাছ খেয়ে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

আলতাব হোসেন নামে একজন ক্রেতা জানান,তিনি বাজার থেকে শক্ত দেখে ইলিশ মাছ কিনে নিয়ে যান। বাড়িতে মাছ কাটার সময় বুঝতে পারেন এটি পচা। তারপর তার স্ত্রী মাছ ভেজে রান্না করেন। কারণ কেনা মাছ তো ফেলে দেয়া যায় না। ওই মাছ খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন।

সোহাগ বিশ্বাস নামে আরেক ক্রেতা জানান,বাজার থেকে এখন ইলিশ মাছ কিনলে ঠকতে হচ্ছে। কারণ শক্ত মাছ দেখে বোঝার উপায় নেই মাছটি খারাপ । কেনার পর বাড়িতে নিয়ে কিছুক্ষণ রাখলেই মাছ পচা বোঝা যাচ্ছে।

শহরের বড় বাজারের কুয়াকাটা ফিস এন্ড সাপ্লায়ারের মালিক নুর আলম জানান, আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত সাগরে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ । সেখান থেকে কিছু মাছ নদীনালা থেকে ধরে বিক্রি করা হচ্ছে। এটা নিষিদ্ধ হলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিক্রি করছেন। তারা কিছু টাটকা মাছের সাথে বরফ দিয়ে শক্ত করা মাছ বিক্রি করছে। ওই মাছগুলো তারা চট্টগ্রাম থেকে আনছেন। তিতাস ফিসের মালিক বাজারে টাটকা মাছ বিক্রি হচ্ছে। সব মাছ পচা না। বাজারে এক ধরনের ব্যবসায়ী আছে তারা বরফে শক্ত করা পচা মাছ বিক্রি করছে। এ ধরনের ক্রেতারাও সেই মাছ দাম কম পেয়ে কিনছেন। তবে পচা মাছ আমরা বিক্রি করি না।

তবে হাফিজুর রহমান নামে এক বিক্রেতা জানান, কখনোই বাজারে বরিশালের ইলিশ মাছ পাওয়া যায় না। অসময়ে ভোলা ,চট্টগ্রাম থেকে মাছ আনা হয় । দোকানদাররা ক্রেতাদের সাথে মিথ্যা বলে বরিশালের মাছ হিসেবে বিক্রি করেন। তিনি দাবি করেন বাজারে বরফে শক্ত করা পচা মাছ নেই। আমিও বিক্রি করি না।

যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে মাছ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ফিসফিড বিক্রেতাদের জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে আফ্রিকান মাগুর জব্দ করা হয়েছে। তবে বরফে শক্ত করা পচা ইলিশ মাছ বিক্রির বিষয়টা তার জানা নেই । এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানান, বাজারে বরফ দিয়ে শক্ত কার পচা ইলিশ মাছ বিক্রি করা হলে ওইসব বিক্রেতাদের ছাড় দেয়া হবে না। এখন ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ রকম নিষিদ্ধ মাছ বিক্রি করা হলেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।