চুয়াডাঙ্গায় হাফেজের মস্তকবিহীন লাশ, কালীগঞ্জে শোকের মাতম

:: কালীগঞ্জ প্রতিনিধি ::
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে হাফেজি পড়ুয়া এক ছাত্রের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আবির হোসেন (১১) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ আলী হোসেনের ছেলে।

বুধবার সকালে তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আহাজারি শুরু হয়। এদিকে আবিরের লাশ গ্রামে আনা হচ্ছে এমন খবরে গ্রামবাসীসহ পার্শ্ববর্তী কয়েক গ্রামের মানুষের ঢল নামে তার বাড়িতে। বুধবার ভোরে আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি আমবাগান থেকে আবিরের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করলেও তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

জানা যায়, আগের দিন মঙ্গলবার রাতে এশার নামাজের পর নিখোঁজ আবিরকে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার পর পার্শ্ববর্তী একটি আমবাগানে ফেলে রেখে যায়। পরদিন সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধারের পর দুপুরে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তরের কথা থাকলেও ঘটনা তদন্তের স্বার্থে দেয়া হয়নি।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ঢাকা থেকে পুলিশ প্রশাসনের কয়েকটি বিশেষজ্ঞ টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা হাফেজিয়া মাদ্রাসা এতিমখানায় পড়শুনা করতো।

কালীগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রতিবেশি ও আবিরের মাদ্রাসার শিক্ষক তামিম বিন ইউসুপ জানান, দুবাই প্রবাসী আলী হোসেনের ছেলে আবির হাফেজি পড়তে প্রায় ১ বছর আগে আলমডাঙ্গার কয়রাডাঙ্গা মাদ্রাসাতে ভর্তি হয়। প্রতিদিনের ন্যায় মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসার মসজিদে এশার নামাজ পড়ার পর থেকেই সে নিখোঁজ হয়। এরপর রাতে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্থানীয় থানায় অবহিত করে।

পরদিন বুধবার ভোরে এলাকাবাসী মাদ্রাসার প্রায় ৩০০ গজ দুরে একটি আমবাগানে মস্তকবিহীন এক লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খরব দেয়। এ খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবিবের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে তার কাটা মস্তকটি এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি মুন্সি আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মাদ্রাসাছাত্র আবিরের লাশ উদ্ধার ও ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি ইউনুচ আলী জানান, সকালে খবর পেয়েই তিনি নিহত আবিরের বাড়িতে সংবাদ পাঠিয়েছেন। তবে পুলিশের তদন্তের স্বার্থে লাশ এখনো দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।