বেনাপোলে সালাম হত্যায় স্ত্রী ও প্রেমিক জাহাঙ্গীর অভিযুক্ত

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
যশোরের বেনাপোলের পাটবাড়ি গ্রামের আব্দুস সালাম হত্যা মামলায় স্ত্রী ও তার প্রেমিককে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক এম মশিউর রহমান।

অভিযুক্ত আসামিরা হলেন বেনাপোলের শিকড়ি গ্রামের মোক্তার আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও বৃত্তি আঁচড়া গ্রামের আব্দুস সুবহান সরদারের মেয়ে নিহতের স্ত্রী সাবিনা খাতুন।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৪ মে বিকেলে আব্দুস সালাম একটি ফোনে কথা বলে ছেলেকে দোকান বসিয়ে বের হয়ে যায়। রাতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয় স্বজনেরা। পরদিন সকালে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে আমড়াখালি রেল ব্রিজের নিচের ডোবা থেকে আব্দুস সালামের লাশ উদ্ধার করে স্বজনরা। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই আসলাম হোসেন বাদী হয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুস সালামের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে জাহাঙ্গীরের ছোট বেলায় প্রেম ছিল। সাবিনার বিয়ের পর তিনি নিজেও বিয়ে করেন। তিন বছর আগে সাবিনা জাহাঙ্গীরের ইজিবাইকে করে শ্বশুর বাড়ি যান। এরপর সাবিনা জাহাঙ্গীরের মোবাইল নম্বর নিয়ে প্রায় কথা বলতেন। এ ভাবে তাদের মধ্যে আবারও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরমধ্যে সাবিনা তার প্রেমিক জাহাঙ্গীরকে পরামর্শ দেয় স্বামী আব্দুস সালামকে হত্যা করতে।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৪ মে আব্দুস সালাম মোবাইল করে তার কাছে কিছু টাকা ধার চান। জাহাঙ্গীর আলম তাকে টাকা দেয়ার কথা বলে দেখা করতে বলে। এরপর জাহাঙ্গীর একটি পানের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আব্দুস সালামকে খাইয়ে দেয়।

শার্শার পান্তাপাড়া গ্রামের আমড়াখালি রেল ব্রিজের কাছে আসলে আব্দুস সালাম হাত-মুখ ধোয়ার জন্য ব্রিজের নিচে যান। জাহাঙ্গীর তখন তার সাথে গিয়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

এ মামলার তদন্ত শেষে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও স্বাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে অভিযুক্ত দুইজনকে আটক দেখানো হয়েছে।