মণিরামপুরে সরকারি বাড়ি বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন

:: আব্দুল মতিন, মণিরামপুর ::
যশোরের মণিরামপুরের কদমবাড়িয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা। তার বসত ভিটার পরিমাণ ৯৮ শতক। রয়েছে একটি বড় পুকুর। রয়েছে একটি আধাপাকা বাড়ি। কর্মক্ষম তিন ছেলেও রয়েছে তার। বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন স্থানীয় সোহরাব মোড়ে নিজের জমিতে দোকান করবেন বলে ইট ফেলেছেন। মেজো ছেলে মঈনুদ্দীনের ওই মোড়ে মোটর গ্যারেজ রয়েছে। ছোট ছেলে জয়নাল আবেদীন ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।

এরপরেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ সহণীয় ২২টি ঘরের একটি বরাদ্দ হয়েছে তার নামে। এ ঘরের জন্য বরাদ্দ দুই লাখ ৫৮ হাজার টাকা। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দুই পাশে বারান্দাসহ দুইটি কক্ষ, একটি বাথরুম ও রান্না ঘর।

প্রকৃত তথ্য গোপন করে বসতভিটার একটি পুরোনো মাটির ঘর দেখিয়ে তিনি সরকারি ঘর নিচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন গোলাম মোস্তফার বাড়ি মণিরামপুর-ঝিকরগাছা পাকা সড়কের সোহবার মোড় লাগোয়া। তাদের দাবি, তিনি ঘর পাওয়ার আদৌ যোগ্য নয়। এলাকায় অনেক অসহায়, দরিদ্র ও বিধবা নারী রয়েছেন। যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত নেই।

সরেজমিন দেখা যায়, গোলাম মোস্তফার বাড়িতে সরকারি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। ঘরের প্রায় ২-৩ ফুট দেওয়াল নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

সাবেক এ ইউপি সদস্যর মোস্তফা জানান, ৯৮ শতক জমি থেকে বাড়ি করার জন্য ভাইপোদের ৮ শতক জমি দান করেছি। বাকি ৯০ শতক আমার দখলে রয়েছে। একটা ইটের ঘর করেছিলাম অনেক আগে, সেটা এখন ছেলেদের দিয়ে দিয়েছি। আমার বলতে কোনো বসত ঘর নেই।

মোস্তফা বলেন, ছয় বছর আগে কাঁঠাল গাছ থেকে পড়ে কোমরে আঘাত পেয়েছিলাম। এখন হুইল চেয়ার ছাড়া চলতি পারিনা। আগেও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে চিকিৎসা খরচ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পায়েছি। বয়স্ক ভাতার কার্ড আছে।

গোলাম মোস্তফার ভাইয়ের ছেলে বর্তমান ইউপি সদস্য তায়জুল ইসলাম মিলন বলেন, চাচার সাড়ে ৯৮ শতক ভিটে বাড়ি রয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ২০ শতক জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। বাকিটা তার দখলে রয়েছে। চাচার ভিটে একটি ইটের ঘরও রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তিনি আদৌ সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য নন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, মোস্তফা মেম্বরের তিন ছেলে কর্মক্ষম। তার বাড়িতে অনেক জমি জায়গা সম্পদের মালিক। একটা বড় পুকুর রয়েছে তার। অথচ তার মত ব্যক্তি যদি সরকারি ঘর পায় তাহলে আমি মনে করি আমার ওয়ার্ডে ১০-১৫ জন লোক বাদে বাকি সবাই সরকারি ঘর পাওয়ার দাবি রাখে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মণিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ বায়েজিদ বলেন, যাদের জমি আছে, ঘর নেই, ঘর করার সক্ষমতা নেই, বিধবা, অসহায়, মুক্তিযোদ্ধা এমন ব্যক্তি এ ঘর পাবেন। গোলাম মোস্তফা প্রতিবন্ধী। তার কোন ঘর নেই। সেই হিসেবে তাকে ঘর দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রস্তুত করা হয়েছে। ভুল হওয়ার কথা না। তবুও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।