ডেঙ্গু নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্বাস্থ্য বিভাগ,  নতুন ভর্তি রোগী ২৭

বিল্লাল হোসেন :
ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিসক সেবিকারা হিমশিম খাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে, যাদের বেশিভাগ এসেছে গ্রাম থেকে। ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকার বাসিন্দাদের যশোরে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু। তার আশঙ্কা ঢাকা থেকে ঈদ করতে দলে দলে লোকজন যশোর আসলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। এদিকে বুধবার সকালে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষার ডিভাইস এনএস-১ পৌঁছেছে। সরকার বিনামূল্যে ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষার ঘোষণা দিলেও যশোর মেডিকেল কলেজে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। যশোর সিভিল সার্জন অফিসের পক্ষ থেকে শহরে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতনামূলক প্রচার জোরদার করা রয়েছে।
হাসপাতাল থেকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১২ টার পর থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১৬ জন হলেন যশোর শহরের বেজপাড়ার অমি (৮), রেলগেট এলাকার আনোয়ার হোসেন (৪০), উপশহর এলাকার অয়ন (২৮), সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের আব্দুল করিম (৪০), ভাতুড়িয়া এলাকার রাজ্জাক হোসেন (৪০), বকচর হুশতলার আলমগীর (৪০), মাহিদিয়া গ্রামের মলিনা (৪০), শার্শা উপজেলার বাগআচড়ার শফিকুল (৭), ঝিকরগাছার পারবাজার এলাকার আবুল কালাম (১৮), চৌগাছা উপজেলা মোড়ের হাসান (৩৫), হাজরাখানার স্বপন (৩০), কৃষ্ণ (৩৯), বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা এলাকার বাদশা (১৫) ও মণিরামপুর উপজেলার কোদলাপাড়ার ফাতিমা (৪০)। এদিন বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৬১জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। সকালে চিকিৎসকের ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছে ৬ জন। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ড ছাড়িয়ে বাইরের ফ্লোরে স্থান হয়েছে অনেকের। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোরে মোট ৯৮ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের বিষয়ে যশোর সিভিল সার্জন অফিসের পক্ষ থেকে সচেতনামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কিন্তু এই প্রচারণা পৌঁছাচ্ছে না গ্রামে গ্রামে। শহরে প্রচারণা চালিয়েই কার্যক্রম শেষ করা হচ্ছে। চান্দুটিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম, ঝাউদিয়ার ইন্তাজ আলী, হৈবতপুরের শহিদুল ইসলাম, চুড়ামনকাটি গ্রামের আজিজুল ইসলাম, ঘোনা গ্রামের মুকুল হোসেনসহ আরো অনেকেই জানান, ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের বিষয়ে গ্রামে তারা এখনো কোন প্রচারণা শুনতে পায়নি। টেলিভিশনের খবর শুনে ও পত্রিকা পড়ে ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে তারা জেনেছেন।
যশোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ইমদাদুল হক রাজু জানিয়েছেন, যশোর জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন উপজেলা থেকে এখানে রোগী রেফার্ড করা হচ্ছে। তাই জেনারেল হাসপাতালের জন্য ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষার ডিভাইজ এনএস-১ রিজার্ভে রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিছু পরিমাণ ডিভাইজ পাঠানো হয়েছে। বুধবার থেকে রোগীরা বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ পেয়েছে। প্রতিদিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে চলায় স্বাস্থ্য বিভাগ রীতিমতো দুশ্চিন্তায় রয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সিভিল সার্জন অফিসের একটি টিম প্রতিদিন ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতনামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। শহর থেকে তারা গ্রামেও প্রচারণায় যাবেন। এদিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগীর স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,ডেঙ্গু পরীক্ষায় তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে যশোর মেডিকেল কলেজের কর্মচারী সুইট হোসেন। তবে সুইট হোসেন দাবি করেছেন সরকারি নির্দেশনা পৌঁছানোর আগেই মঙ্গলবার দুইজন রোগীর পরীক্ষার জন্য টাকা নিয়েছিলাম। বিনামূল্যে পরীক্ষা করার নির্দেশনা পেয়ে বুধবার সকালে তাদের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানিয়েছে ডেঙ্গু রোগী নিয়ে তারা রীতিমতো হতাশ ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। হাসপাতালে প্রতিদিন বেড়েই চলেছে আক্রান্তদের সংখ্যা। তিনি আরো বলেন রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জেনেছেন ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে আসা রোগীর সংখ্যাই বেশি। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিসক সেবিকারা হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন এবারের ঈদ আজহার ছুটিতে কেউ যেন ঢাকা থেকে যশোরে বেড়াতে না আসে। আসলেই যশোরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যেতে পারে।