মোরেলগঞ্জে ঘুমন্ত বাসিন্দাদের ওপর হামলায় নিহত ১, আহত ১২

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের পল্লীতে গভীর রাতে ৬ বাড়ির ঘুমন্ত বাসিন্দাদের উপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ হামলায় আ. সালাম সরদার (৪০) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৫ নারীসহ আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ছোট কুমারখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সালাম সরদারের স্ত্রী ও ৩ শিশু সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার ভোর ৫টার দিকে আহতদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে বেলা ৯টার দিকে আ.সালাম সরদারকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিহত আ.সালাম সরদারের ভাতিজা সাগর সরদার এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
আহদের মধ্যে গড়ঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী শামীম সরদার(২৪), তার স্ত্রী জান্নাতি বেগম(১৯), বাবা ইসমাইল সরদার(৫০), রাকিব সরদার(১৪), মোজাম সরদার(৫০), লোকমান সরদার(৪০) ও মঞ্জু বেগম(৩০) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এদের মধ্যে রাকিব সরদার ও মোজাম সরদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহত রিনা বেগম ও রেকসনা বেগমকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
নিহত আ. সালম সরদারের স্ত্রী রেকসনা বেগম দাবি করেছেন, রাজনৈতিক শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০০১সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে জামায়াত বিএনপির কর্মীদের হাতে আওয়ামী লীগ কর্মী এনায়েত সিকদার নিহত হন। ওই মামলার আসামিরা এ হামলা চালিয়েছে।
গুরুতর আহত লোকমান সরদারের স্ত্রী রীনা বেগম বলেন, গভীর রাতে সিঁধ কেটে ১০/১২জন লোক ঘরে ঢুকে লোকমানকে মারপিট শুরু করে। তার চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে ছোটভাই আ. সালাম সরদার ছুটে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে পিটিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে খালে ফেলে দেয়।
গুরুতর আহত রাকিব সরদারের বাবা ছলেমান সরদার বলেন, গভীর রাতে একই সময়ে আমাদের বংশের ৬টি বাড়িতে হামলা চালিয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা ৪টি মিনি গ্যাস সিলিন্ডার, বেশকিছু লাঠি ও ধারালো অস্ত্র এসব বাড়িতে ফেলে রেখে গেছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান, মোরেলগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলাম, থানা অফিসার ইচার্জ (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ওসি আজিজুল ইসলাম বলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মন্টু মোল্লা ও জাফর শেখ নামে দু’জনকে আটক করা হয়েছে।