চৌগাছায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

বাবুল আক্তার, চৌগাছা
যশোরের চৌগাছায় জমে উঠছে পশুর হাট। কোরবানিকে সামনে রেখে ভারতীয় গরু না আসায় ভালো দাম পেয়ে খুশি দেশি গরু খামারিরা। এ বছর ভারতীয় গরু না আসায় দেশি গরু, মহিষ ও ছাগলের উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন উপজেলার কৃষক ও খামারিরা।

উপজেলর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী বলেন, এ বছর উপজেলার ৮০০ গরুর খামার ও পারিবারিকভাবে প্রায় ৫ হাজার ৮১৭টি গরু এবং ২৫টি ফার্ম ও পারিবারিকভাবে ৬ হাজার ৩৫০টি ছাগল মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে যা কোরবানি উপলক্ষে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এ সকল গরু-ছাগল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বড়-বড় শহরে চলে যাচ্ছে।

পুড়াপাড়া পশুহাটে গরু বিক্রি করতে আসা উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামের আমজাদ আলী বলেন, দেশি একটি ষাড় বিক্রি করেছি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। এ বছর গরুর দাম ভাল। বেশি দামে বিক্রি করে তিনি খুশি।
চৌগাছা গরুর হাটে কোরবানির জন্য গরু কিনতে আসা পৌর শহরের ইছাপুর গ্রামের দেওয়ান শফিকুল ইসলাম জানান, গত কোরবানিতে যে ওজনের গরু ৭৫ হাজার টাকায় কিনেছিলাম এ বছর সেই ওজনের গরু ১ লাখ টাকায় কিনেছি।

হাটে আসা গরুর ব্যাপারি কলিম মাহমুদ জানান, এ বছর ভারতীয় গরু না আসায় দেশি গরুর খামারিররা লাভবান হচ্ছেন।

চৌগাছা পশুরহাট ঘুরে দেখা যায়, হাটের নির্ধারিত জায়গা ছাড়াও আশপাশের রাস্তার উপর ও পতিত ফাঁকা জমিতে দেশি গরুতে ভরে গেছে। এসব গরুর মধ্যে অধিকাংশই ফার্মের। এসব গরু অল্প টাকায় কিনে মোটাতাজা করেছেন খামারিরা। অনেক খামারি কোরবানিকে সামনে রেখে ভারতের নিষিদ্ধ ইনজেকশন ও ট্যাবলেট সেবন করিয়ে গরু মোটাতাজা করেছেন, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এজন্য গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার তাগিদ দেন ক্রেতারা।

এ ব্যাপারে উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোতা মিয়া জানান, উপজেলার পাঁচটি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় কোনো গরু এ দেশে ঢুকছে না। ফলে এ বছর খামারিরা লাভবান হবেন। আমার ইউনিয়নের আন্দুলিয়া, কুলিয়া, বল্লভপুর এলাকায় দেশি গরুর বেশ কয়েকটি বড় ফার্ম রয়েছে। এ এলাকা থেকে ইতিমধ্যে ৫০-৬০ ট্রাক দেশি গরু সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিজিবি ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাবিলপুর, শাহাজাদপুর, মাশিলা, আন্দুলিয়া, পাঁচপীরতলা ও বর্ণি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু দেশে ঢুকছে না। কোরবানির ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তাই খামারিরা তাদের গরু বিক্রি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বড় বড় ব্যাপারিরা এ এলাকায় গরু কিনতে আসছেন। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে দেশি গরু ট্রাক বোঝাই করে চলে যাচ্ছে সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়।

এ ব্যাপারে মাশিলা বিওপি ক্যাম্প ইনচার্জ হাবিলদার বদর উদ্দীন জানান, কোরবানির ঈদের আর মাত্র ১২ দিন বাকি। এখন ভারত থেকে গরু আসছে না। ভারতীয় গরু যাতে না আসতে পারে সেজন্য আমরা সীমান্তে টহল জোরদার করেছি।