ছোট বাবু হত্যার রহস্য উন্মোচন, আটক ৫ বন্ধুর স্বীকারোক্তি

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
যশোরের শার্শা উপজেলার গোগার কালিয়ানি গ্রামে নিহত নূর জামাল ওরফে ছোট বাবু (২৪) হত্যার অভিযোগে ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সাথে হত্যায় ব্যবহৃত দুটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। ছোট বাবু ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের নজর আলীর ছেলে। আটক ৫ জনই ছোট বাবুর বন্ধু।

এদিকে আটক ৫ আসামি শুক্রবার হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাদী হাসান তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

আটককৃতরা হলো, ঝিকরগাছার মোবারকপুর গ্রামের আব্দুর রউফ ওরফে বাবলু ডাক্তারের ছেলে তাজরিয়ান মাহমুদ তুর্য্য (১৯), ইমরান রেজা খোকনের ছেলে তাহজীবুল বিশ্বাস অক্ষর (২০), মল্লিকপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম (১৯), মোবারকপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে আবু জাফর (১৯) এবং কামরুল ইসলামের ছেলে শাহিন হোসেন (২০)।

নিহত ছোট বাবুকে ৩০ জুলাই সাতক্ষীরা থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে ঝিকরগাছায় নিয়ে আসে এবং ফেনসিডিল সেবনের নাম করে বেনাপোলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে তারা । শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং এ এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সালাউদ্দিন সিকদার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (নাভারণ সার্কেল) জুয়েল ইমরান, ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহমদ, শার্শা থানার ওসি মশিউর রহমান প্রমুখ।

পুলিশ জানিয়েছে, ছোট বাবুর বাবা এক সময় ঝিকরগাছা রেলস্টেশনের কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। বাবার সঙ্গে মায়ের তালাক হয়ে যাওয়ার পর সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার মাঝিপাড়া গ্রামের থাকতো। সে মাদক সেবন করতো নিয়মিত। মাঝে মধ্যে ঝিকরগাছায় আসতো। সে সময় তার বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়াতো। সে প্রায় সময় বন্ধু তুর্য্যরে মোটরসাইকেলটি নেয়ার বায়না করতো। না দেয়ায় টাকা চাইতো। ছোট বাবুর স্বভাব ভালো না এবং মোটরসাইকেল ফিরে পাবে না এ কারণে অপর বন্ধুর সাথে পরামর্শ করে তুর্য্য। বিরক্ত হয়ে ছোট বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ জুলাই তাকে সাতক্ষীরা থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর আসামি সাজ্জাদের পরিকল্পনায় দু’টি মোটরসাইকেলে করে ছোট বাবুসহ ৬জন বেনাপোলে যায় ফেনসিডিল সেবনের জন্য। গোগার কালীয়ানি গ্রামের জাফর আলীর জমিতে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তুর্য্য ও পরে সাক্ষর দুইটি চাকু দিয়ে তার শরীরে ১৪টি আঘাত করে। পরে তার মরদেহ ফেলে তারা ঝিকরগাছায় ফিরে আসে।

পুলিশ আরো জানায়, ছোট বাবুর মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয় মরদেহের পকেট থেকে। পাশ থেকে দুটি চাকুও উদ্ধার করা হয়। পরে তার মোবাইল নম্বর ট্রাকিং করে তুর্য্য, স্বাক্ষর ও সাজ্জাদুলের অবস্থান জানতে পারে। ৩১ জুলাই ঝিকরগাছা রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক জাফর ও শাহিনকে আটক করা হয়। তারা হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। এ হত্যার সাথে আরো একজন জাড়িত। তার নাম আল-আমিন। তবে সে পলাতক রয়েছে।

পুলিশ জানায়, ছোট বাবু নানা ধরণের অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। তার বড় ভাই বড় বাবু ১৬টি মামলার আসামি। ছোট বাবুর নামে ঢাকার দারুস সালাম থানায় একটি মামলা আছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। পলাতক একমাত্র আসামি আল আমিনকে আটকের চেষ্টা চলছে।