যশোরে গৃহবধূ খুশি হত্যায় ৫ জনের নামে মামলা, শ্বশুর-ননদ আটক

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
যশোরে গৃহবধূ খুশিলা ওরফে খুশি (২২) হত্যার অভিযোগে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় খুশির শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাক (৬৫) এবং ননদ নাছিমা খাতুনকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে যশোর সদর উপজেলার নওদাগা গ্রামে খুশির রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী এবং মেহেরপুর সদর উপজেলার কন্দেপপুর গ্রামের দাউদ হোসেনের মেয়ে।

এ ঘটনায় ৫জনের নাম উল্লেখ করে কোতয়ালি থানায় মামলাটি হয়।

আসামিরা হলেন, খুশির স্বামী ফারুক হোসেন, শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাক, ননদ নাছিমা খাতুন, ফারুকের প্রথম স্ত্রী শারমিন বেগম এবং শাশুড়ি।

কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) শেখ তাসমীম আলম জানিয়েছেন, নিহত গৃহবধূ ও তার স্বামী ফারুক হোসেন পরস্পর আত্মীয়। ফারুক কয়েক বছর সিঙ্গাপুরে থেকে ৭-৮ মাস আগে দেশে ফেরেন। নওদাগা গ্রামে তিনতলা বাড়িতে প্রথম স্ত্রী শারমিনকে নিয়ে থাকতেন। বিদেশ থেকে ফিরে আত্মীয় মেহেরপুর সদর উপজেলার কন্দেপপুর গ্রামের দাউদ হোসেনের বাড়িতে বেড়াতে যান। পরে তার মেয়ে খুশির সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মাস ছয়েক আগে তারা নিজেরা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেন। এ বিষয়ে অপহরণের একটি মামলা মেহেরপুর থানায় দায়ের করেন দাউদ হোসেন।

মামলা হওয়ার পরও ফারুক যশোরের নওদাগা গ্রামে তার পুরনো বাড়িতে খুশিকে নিয়ে থাকতেন। কিন্তু ফারুকের দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে পারেনি তার পরিবারের সদস্য। প্রায় সময় খুশির সাথে তাদের নানা ঝামেলা চলতো। ফারুকের নওদাগা গ্রামে মুরগী ও গরুর খামার আছে। শুক্রবার সকালে ফারুক খামারে যান। পরে তার মরদেহ একটি গ্রিলের সাথে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।

সংবাদ পেয়ে কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামানসহ অন্যান্য অফিসার সেখানে যান এবং মরদেহ দেখে তাদের সন্দেহ হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে দাউদ হোসেনও মেহেরপুর থেকে যশোরে পৌঁছান এবং তার অভিযোগ খুশিকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

তিনি এ ঘটনায় কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ হত্যা মামলা হিসাবে তা রেকর্ড করে।

পুলিশ আরো জানায়, শুক্রবার রাতে খুশির শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাক ও ননদকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।