মাগুরা সদর হাসপাতালে ২০ ডেঙ্গু রোগী

:: মাগুরা প্রতিনিধি ::
মাগুরায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শনিবার পর্যন্ত মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২০ জন রোগী। রবিউল ইসলাম (২০), আমীর (২১), বায়োজিত (৩২), রাজিন (৪৩) সহ আরো অনেকে ভর্তি হয়েছেন গত কয়েকদিনে।

মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার বড় বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ডেঙ্গু রোগী রবিউল ইসলামের মা হাসিনা বেগম জানান, আমার ছেলে ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করে। সে গত ৩১ জুলাই বাড়িতে চলে আসে। তারপর থেকেই তার জ্বর, গায়ে ব্যথা, বমি, নাকে রক্তসহ চোখ লাল দেখা যায়। আমরা ১ আগস্ট সাথে সাথে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তাকে ভর্তি করি।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মাগুরা শ্রীপুরের আমীরের নানী রোকেয়া বেগম জানান, ২ দিন ধরে জ্বর থাকায় আমরা গ্রাম্য ডাক্তার দেখাই কিন্তু কোনো কাজ না হওয়ায় তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়লে এখানে ভর্তি করি।

অন্যদিকে, আসিফ হোসেন নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মাগুরা সদর উপজেলার খালিমপুর গ্রামের বাবর আলী মোল্লার ছেলে আসিফ ঢাবির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

আসিফের ভাই রাকিব বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তার ভাই আসিফ ঢাকার হাতিরপুল এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকে জ্বরে আক্রান্ত হলে ২৫ জুলাই ঢাকা মেডিকেলে রক্ত পরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এ অবস্থায় পরদিন তিনি বাড়ি চলে আসলে তাকে মাগুরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার মসিউর রহমান জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সদর হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড ও ডেঙ্গু কর্ণার খোলা হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত ২০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের জরুরি বিভাগের পাশের ২টি কক্ষে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জ্বর অবস্থায় কোনো রোগী আসলে আমরা তাদের পরীক্ষা শেষে কনসালটেন্ট ডাক্তার দ্বারা নিরীক্ষা করি। তারপর ডেঙ্গু পজেটিভ হলে আমরা তাকে ভর্তি করছি। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই।