যশোরে জঙ্গি মারজানের বোন খাদিজাসহ চারজন অভিযুক্ত

নিহত জঙ্গি মারজানের বোন নব্য জেএমবি সদস্য খাদিজা খাতুন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
যশোরে সন্ত্রাস বিরোধী ও নাশকতা পরিকল্পনার মামলায় নিহত জঙ্গি মারজানের বোন নব্য জেএমবি সদস্য খাদিজা খাতুনসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে কোতয়ালি থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট দেন পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং) সুমন ভক্ত।

অভিযুক্ত আসামিরা হলো জয়পুরহাট সদরের কাদোয়া কয়ারাপাড়া গ্রামের হারুনুর রশীদের ছেলে যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোড বাইলেনের শিক্ষক হায়দার আলীর বাড়ির দ্বিতীয়তলার ভাড়াটিয়া সাদিসুর রহমান ওরফে সাগর ওরফে মশিউর রহমান ও তার স্ত্রী খাজিদা খাতুন, যশোর চৌগাছা হাজী তেল পাম্পের সামনের ১৭৪ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বিশ্বাসের ছেলে শফিকুল ইসলাম টিটু এবং ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের ছেলে যশোর পুরাতন কসবা চাকলাদার টাওয়ারের সামনে ওলিয়ার রহমানের বাড়ির ভাড়াটিয়া জহুরুল ইসলাম রনি।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, নিহত মারজানের বোন খাদিজা ও তার স্বামী নব্য জেএমবির সদস্য। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোড মসজিদ পাড়ার একটি ফ্লাট বাড়িতে জঙ্গি নেতা মারজানের বোন অবস্থান করছে। পরে ডিএমপি ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম, ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমস এর সোয়াত টিম, বোমা ডিসপোজাল ইউনিট, এলআইসি পুলিশ হেড কোয়ার্টারসহ পুলিশের অন্যান্য টিমের সদস্যরা বাড়িটি প্রাথমিক ভাবে ঘিরে রাখে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করে সেখানে জননিরাপত্তার স্বার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এরপর মাইকে আসামি খাদিজাকে অত্মসমর্পণ করার জন্য বলা হয়। আহ্বানে সাড়া না দেয়ায় মেলটেড আইস অভিযান পরিচালনা করা হয়। একপর্যায়ে খাদিজা খাতুন তিন সন্তান নিয়ে আত্মসমর্পণ করে। এরপর সোয়াত টিম বাড়ির মধ্যে ঢুকে তিনটি সুইসাইডাল ভেস্ট জব্দ করে তা নিস্ক্রিয় করে। সেখান থেকে ২৪০টি বিয়ারিং এর বল উদ্ধার করা হয়।

এ সময় খাদিজা খাতুনের স্বামী হাদিসুর রহমান সাগর ওরফে মশিউর বাসায় ছিল না। খাদিজা তার তিন সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ে সুরাইয়া (৫) ও সুমাইয়াকে (৩) তাদের নানা নিজাম উদ্দিনের জিম্মায় দেয়া হয়। ছোট ছেলে রাজু (২) দুগ্ধজাত হওয়ায় তার মায়ের কাছে রাখা হয়। নিষিদ্ধ জঙ্গি তৎপরতা, জঙ্গি কার্যক্রম সংগঠনের উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি নিজ হেফাজতে রাখা, অপরাধ সংগঠনের ষড়যন্ত্র ও অপরাধে সহায়তা করার অপরাধে পরিদর্শক (ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড কমিউনিটি পুলিশিং) তোফায়েল আহমেদ বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অপরিচিত ৪-৫ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

এ মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে আটক আসামির দেয়া তথ্য ও স্বাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ওই চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে অভিযুক্ত সকল আসামিকে আটক দেখানো হয়েছে।