যশোরে নতুন ১৪ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ৭ জন

:: বিল্লাল হোসেন ::
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত নতুন ১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শনিবার সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তারা হাসপাতালে ভর্তি হন বলে জানা গেছে। ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন ৭ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ৭৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন। ৪৭ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে।

যশোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ইমদাদুল হক রাজু জানান, যশোর জেলায় মোট ১৪৮ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিকে ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষায় ব্যবহৃত কীট এনএস-১ সংকট কালে এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। রোগীদের ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য এদিন সকালে নেতৃবৃন্দ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটুর হাতে ১০০ কীট এনএস-১ তুলে দেন। পরে বিএমএর আয়োজনে হাসপাতাল সভাকক্ষে ডেঙ্গু জ্বরের উপর বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে সচেতনতায় র‌্যালিও বের করে তারা।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে যেন পা ফেলার জায়গা নেই। মেডিসিন ওয়ার্ড পেরিয়ে শিশু ওয়ার্ডের সামনের মেঝে পর্যন্ত রোগীর দীর্ঘ সারি পড়ে গেছে। প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগী বেড়েই চলেছে। পুরুষ ও মহিলা পেইং ওয়ার্ডে ও ফাঁকা নেই কোন শয্যা। রোগীরা বাধ্য হয়ে যেখানে সেখানে শুয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। বলা হচ্ছে অনেক রোগী মাথা ঠাণ্ডা করে কাজ করতে দেন।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী প্রতিদিন বাড়ার কারণে চিকিৎসাসেবায় হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা। রোগীর স্বজনদের উচিৎ রোগীর চিকিৎসাসেবার সময় তাদের সহায়তা করা। রোগীর পাশাপাশি স্বজনরা ভিড় করার কারণে চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তবে আক্রান্তদের আলাদা করে রাখার জন্য ডেঙ্গু কর্ণার তৈরির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ক হলে রোগীদের দুর্ভোগ কমে যাবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, হিমশিমের মধ্যেও ন্যাশনাল গাইড লাইন মেনে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরে চাহিদাপত্র দিয়েও ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য কীট না পেয়ে রীতিমতো হতাশ ছিলেন। শনিবার বিএমএ যশোরের নেতৃবৃন্দ রোগীদের ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ১০০ কীট এনএস-১ দেয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা কমেছে। এরআগে সিভিল সার্জন অফিসের পক্ষ থেকে ৮০টি কীট প্রদান করা হয়েছিলো। কীটের চাহিদাপত্র আবারো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

বিএমএ যশোর শাখার সভাপতি ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু জানান, রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষা নিরীক্ষায় তারা সবসময় সহায়তার হাত বাড়াবেন। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।

ডেঙ্গু জ্বরের উপর বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তিনিসহ উপস্থিত ছিলেন বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. এমএ বাশার, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু, যশোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ইমদাদুল হক রাজু। সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন। পরে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ ও সচেতনায় বের করা র‌্যালিটি যশোর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডেঙ্গু জ্বরে যশোরে ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে। প্রতিদিন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত একাধিক রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আবার কীট সংকট বিরাজ করছে। এরপরেও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সাপোর্ট কমিটির কোনো নেতৃবৃন্দ রোগীদের চিকিৎসাসেবায় কোনো খোঁজ নেননি। কোনো জনপ্রতিনিধিও এগিয়ে আসেননি হাসপাতালে রোগীদের পাশে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্মকর্তাদের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।