শার্শার সাতমাইল ও মণিরামপুর হাটে পর্যাপ্ত পশু আছে ক্রেতা কম

:: স্পন্দন ডেস্ক ::

যশোরের শার্শার সাতমাইল ও মণিরামপুরে গতকাল শনিবার ছিল কোরবানীর পশুহাট। এ দুই হাটে পর্যাপ্ত গরু ছাগল উঠলেও ক্রেতা ছিল কম।

বাগআঁচড়া প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান নয়ন জানান, যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুহাট বাংলাদেশের অন্যতম বড় একটি পশুহাট। জমজমাট হাট হওয়া সত্ত্বেও এ হাটে নেই তেমন ক্রেতা।

উত্তর বঙ্গের প্রায় সব জেলা থেকে পশু কেনার জন্য ব্যাপারিরা আসেন শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ার সাতমাইল পশুহাটে। হাটে এবার ভারতীয় গরুর চাপ নেই বললেই চলে। দেশের বিভিন্ন এলাকার গরুর খামারিরা এ হাটে গরু নিয়ে আসছেন তাতে করে খামারিরা একটু লাভবান হচ্ছে।

বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুহাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের থাকা খাওয়া সুব্যবস্থা রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক রাখতে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে। এখানে শনি ও মঙ্গলবার সপ্তাহে দুই দিন পশু হাট বসে। পশু স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সতর্ক থাকায় এবার মানসম্মত পশু পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের।

পশু হাটের ইজারাদার নাজমুল হাসান জানান, এবারের ঈদুল আযহার কোরবানির হাটে ভারতীয় গরুর চাপ নেই বললেই চলে। দেশীয় গরু আছে প্রচুর পরিমাণে কিন্তু ক্রেতা কম। আশা করছি ঈদের আগে আরো দুইটা হাট পাওয়া যাবে। তখন ঈদের জমজমাট বাজার উপভোগ করবেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

শার্শার খামারি আখতারুজামান বলেন, ভারতীয় গরু না আসায় আমরা লাভের মুখ দেখছি। তবে গো খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় লাভ একটু কম হচ্ছে। দেশীয় পশু খামারের বিস্তারে ভারতীয় গরু না আনার দাবি তাদের।

শার্শার নাভারণ থেকে কোরবানির গরু কিনতে আসা বজলুর রহমান বলেন, এই হাটে প্রচুর গরু আছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা পশুর মূল্য একটু কমালে একটি গরু কিনবো কোরবানির জন্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর জানান, বেলা সাড়ে ৩টা। যশোরের মণিরামপুর প্রেসক্লাবের পরিচ্ছন্নকর্মী ইউসুফ আলী ১৩ থেকে ১৪ কেজি মাংস হবে এমন একটি খাসি নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন পশুহাট থেকে। জানতে চাইলে ইউসুফ আলী জানান, সেই সকাল থেকে বাজারে বসে আছি কোনো খদ্দের নেই। তাই ফিরে যাচ্ছি। এ হাটে পর্যাপ্ত পশু আছে কিন্তু ক্রেতা একেবারে কম।
এনায়েতপুর গ্রামের রহমত আলী নামের এক গরু ব্যবসায়ী ৩টি গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন। কেমন দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই গরু উঠেছে বাজারে। ভালো খদ্দের নেই তাই বাজার মন্দা।

সোবহান হোসেন নামের আরও এক ব্যবসায়ী জানান, ধানের বাজার মার খাওয়া তাই সাধারণ খরিদ্দারদের আগ্রহ কম। শনিবার ছিলো মণিরামপুর পশুহাট। বিভিন্ন সাইজের গরু-ছাগলের ভরপুর ছিলো বাজার। কিন্তু বিক্রি কম ছিলো বলে বিক্রেতারা জানান।

সামনে ঈদের আরও কয়দিন বাকি থাকায় গ্রাম্য খরিদ্দাররা এখনও পশু কিনতে আসেনি বাজারে। যা কম-বেশি বেচাকেনা হয়েছে তা বাইরের ব্যাপারিরা কিনেছে। শ্যামকুড় গ্রামের ইউনুচ নামের এক ব্যক্তি মাঝারি সাইজের একটি গরু বিক্রি করতে আনেন বাজারে। জানতে চাইলে তিনি জানান, দাম যা হচ্ছে, তাতে খরচ উঠবে না গরুর বিক্রির টাকায়।