চিরকুট লিখে নকল সোনা মুড়িয়ে প্রতারণার চেষ্টা, রিকসাচালক আটক

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
যাত্রীকে নকল সোনার বার দেখিয়ে প্রতারণা করার সময় জনতা জাহাঙ্গীর সরদার নামে এক রিকসাচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। সোমবার দুপুরে যশোর জেলরোডস্থ বিএড কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জাহাঙ্গীর সরদার খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার সত্তর বিশ্বাস পাড়ার আবুল সরদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সোমবার বেলা ১টার দিকে এক ব্যক্তি বিএড কলেজের সামনে একটি কাগজে মোড়ানো অবস্থায় একটি সোনার বার পেয়েছে বলে আশপাশে লোকজনকে জানায়। ঠিক সে সময় রিকসাচালক জাহাঙ্গীর সেখানে পৌঁছান এবং তার রিকসায় বসা যাত্রী রেখাকে (২০) ওই সোনার বার নিতে বলে অনেক লাভ হবে বলে প্রলোভন দেখায়। তার কাছে থাকা সোনার চেন দিয়ে ওই সোনারবার নেয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি ঠিক করে পরোখ করার চেষ্টা করেন।

দেখেন, একটি চিরকুটে সোনার মতো চকচক করছে একটি টুকরো। টিরকুটের ওপরে শ্রী জুয়েলার্স নাম লেখা আছে। ঠিকানা নেই। তিনি চিরকুটটিতে লেখাটি পড়ার চেষ্টা করেন।

তাতে লেখা আছে, ‘নিখেল বাবু স্বর্ণকার, আমার নমস্কার নিবেন, আমি না যায়তে পারিয়া আমার ভাতিজার কাছে ৩ ভরি থান সোনা পাঠাইলাম। সুন্দর করিয়া দুই খানা চেইন মালা, দুই জোড়া কানের দুল এবং দুটি আংটি বানিয়ে দিবেন। ইতি আপনার বন্ধু যতিন বাবু সাহা, ২৬ নং রবিন্দ্র রোড, কলিকাতা, ভারত।’

ওই চিরকুট পড়ে রেখার বিশ্বাস হয়। তিনি তার গলা থেকে সোনার চেইন দিয়ে ওই ‘সোনার টুকরো’ নেয়ার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। সে সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। তিনিও জটলা দেখে দাঁড়িয়ে যান। এই সুযোগে ‘সোনার বার’ কুড়িয়ে পাওয়া প্রতারকটি সটকে পড়ে।

পরে দেখা যায়, আসলে চকচক করা ওই টুকরোটি সোনা নয়, নকল। আর চিরকুটটি লেখা প্রতারকদের। তারা ওই ধরনের চিরকুট লিখে তাতে নকল সোনা মুড়িয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস স্থাপনের কাজে লাগায়। এরপর প্রতারণা করে আসল সোনার গহনা নিয়ে চম্পট দেয়।

এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা যশোর শহরে ঘটেছে। যাদের বেশির ভাগেরই বাড়ি খুলনায়। যশোর এসে রিকসা চালকের ছদ্মবেশে এ ধরনের প্রতারণা করে থাকে বলে পুলিশ মন্তব্য করে। ওই রিকসাচালককে প্রতারকের সহযোগী হিসেবে পুলিশে সোপর্দ করেন জনতা।

রিকসাযাত্রী রেখা জানিয়েছেন, তিনি চৌগাছার নারায়ণপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে। সোমবার বেলা ১টার দিকে দড়াটানা থেকে শেখহাটি জামরুলতলায় যাওয়ার জন্য রিকসায় উঠেন। বিএড কলেজের সামনে পৌঁছানো মাত্রই রিকসাচালক থেমে যায় এবং প্রতারকের কাছে থাকা কথিত সোনার টুকরো তাকে নেয়ার প্রস্তাব দেয়।

রিকসাচালক জাহাঙ্গীর সরদার জানিয়েছেন, তিনি প্রত্যেক দিন খুলনা থেকে যশোরে এসে রিকসা ভাড়ায় চালান এবং প্রতিদিন খুলনায় চলে যান। তিনি এই প্রতারণার সাথে জড়িত নন।

প্রসঙ্গত, গত রোববার সকালে বেজপাড়া তালতলার মোড়ে ফিরোজ জুয়েলার্স থেকে প্রতারণার মাধ্যমে দুই নারী দেড় ভরি ওজনের সোনার গহনা ও নগদ আড়াই হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।

এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার এসআই আমিরুজ্জামান জানিয়েছেন, খুলনার একাধিক প্রতারক চক্র যশোরে এসে নানা ধরণের ধান্দা করে বেড়ায়। এদের একটি গ্রুপ ষষ্টিতলা-রেলগেট এলাকায় থাকে। আবার রিকসা বা ইজিবাইকচালকের ছদ্মবেশেও প্রতারকচক্রটি সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগে সোনার গহনা, টাকা পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে যায়। এর থেকে সকলকে সাবধান থাকতে হবে।