যশোরে ঘরে ঢুকে প্রকাশ্যে নববধূকে ছুরিকাঘাত, বখাটে আটক

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
দিনে দুপুরে ঘরের মধ্যে ঢুকে নববধূকে ছুরিকাঘাতে জখম করার অভিযোগে রিয়াজ (২২) নামে এক বখাটেকে আটক করেছে পুলিশ। আটক রিয়াজ যশোর সদর উপজেলার মোবারককাঠি কাজীপুর মুন্সীপাড়ার খোকনের ছেলে এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র।

আহত নববধূ রাজিয়া আক্তার সাথী (১৮) ওই এলাকার মুজাহার আলীর মেয়ে এবং শংকরপুর হাজারিগেট এলাকার আসাদুজ্জামান রনির স্ত্রী।

সাথীর স্বজনরা জানান, গত ১ জুলাই সাথীর সাথে হাজারীগেট এলাকার রনির বিয়ে হয়। পরদিন সাথী তার পিতার বাড়িতে যান। রনিও ভগ্নিপতি সোহানকে সাথে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যান। সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে সাথীর ফুফু মমতাজের বাড়িতে তাদের দাওয়াত ছিল। রনি ও সোহান মিষ্টি কেনার জন্য মুড়লী এলাকায় যান। সে সময় বাড়িতে সাথীর দাদা মনিরুল ইসলাম ও দাদি বাড়িতে ছিলেন।

দুপুরে সাথী গোসলের জন্য ঘরের মধ্যে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা রিয়াজ পিছু নিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে দরজা দিয়ে দেয়। এরপর ঘরের মধ্যে একটি চাকু দিয়ে সাথীর বুকের ডান দিক দিয়ে বাম দিকে এক টানে জখম করে। তার চিৎকারে দাদা মনিরুল ইসলাম এগিয়ে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে জখম অবস্থায় সাথীকে দেখতে পান। সে সময় রিয়াজ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয় এবং চাকুটি উদ্ধার করা হয়।

পরে পুলিশ সংবাদ পেয়ে রিয়াজকে আটক করে এবং সাথীকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। সাথীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছে।

অপরদিকে আটক রিয়াজের দাবি, প্রায় চার বছর ধরে সাথীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এরই মধ্যে গত ১ আগস্ট রনির সাথে সাথীর বিয়ে হয়ে যায়। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে সাথীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। আর সেই পরিকল্পনায় এদিন তাকে বাড়িতে গিয়ে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করে রিয়াজ।

রিয়াজের বক্তব্য অস্বীকার করে সাথীর চাচা আতিয়ার রহমান জানান, রিয়াজের সাথে কোনো সম্পর্ক সাথীর ছিল না। আনুষ্ঠানিকভাবে সাথীকে গত ১ আগস্ট বিয়ে দেয়া হয়েছে। রিয়াজ কখনো পরিবারের কারোর কাছে প্রেমের সম্পর্কের কথা বলেনি।

এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, কাজীপুরে এক বখাটে নববধূকে ছুরিকাঘাতে জখম করেছে। বখাটেকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সাথীর দাদা মনিরুল ইসলামের দেয়া লিখিত অভিযোগও পুলিশ পেয়েছে।