বাঁশবাগানে ফেলে যাওয়া সেই মা আর নেই

:: ফরহাদ খান, নড়াইল ::
বড় ছেলের সংসারেই জীবনপ্রদীপ নিভে গেল বাঁশবাগানে ফেলে যাওয়া সেই বয়োবৃদ্ধ মায়ের। বার্ধক্যজনিত কারণে গত রোববার (৪ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বয়োবৃদ্ধ মা হুজলা বেগম (৮৭)।

ওইদিন রাত আটটার দিকে কুচিয়াবাড়ি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তবে বয়োবৃদ্ধ মা হুজলা বেগমের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেরিতে পৌঁছায়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, বয়োবৃদ্ধ মা হুজলা বেগমকে ভরণ পোষণ দিতে পারবেন না; এমন অজুহাতে ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুচিয়াবাড়ি গ্রামে রাস্তার পাশে বাঁশবাগানে মাকে ফেলে দেন তার মেঝো ছেলে বাবু শেখসহ তার স্ত্রী। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশ-বিদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এ খবরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসা ও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেন। হুজলা বেগমকে উদ্ধার করে ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে আনা হয়। এখানে দীর্ঘ ৩৩দিন চিকিৎসা শেষে গত ৩১ অক্টোবর (২০১৮) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের উপস্থিতিতে হুজলা বেগমকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেই থেকে নড়াইলের কুচিয়াবাড়ি গ্রামে বড় ছেলে ডাকু শেখের বাড়িতেই কেটেছে হুজলার জীবন।

হুজলা বেগম হাসপাতাল ছাড়ার সময় তার মেঝো ছেলে বাবু শেখ সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, মাকে বাঁশবাগানে ফেলে দেয়ার ঘটনায় আমরা ভীষণ লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। মাকে কখনোই অবহেলা করবো না। তিনিসহ তার পরিবারের সদস্যরা ভুল বুঝতে পেরেছেন। মায়ের সাথে এ ধরণের আচরণ তাদের ঠিক হয়নি। মায়ের যথাযথ মর্যাদা ও ভরণ-পোষণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাসপাতাল থেকে হুজলাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন তার সন্তানেরা।