যশোর পলিটেকনিকে অচলাবস্থায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ব্যাহত

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
যশোর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক-কর্মচারিরা বেতন-ভাতার জন্যে আন্দোলনে থাকায় গত চারদিন ধরে এসব শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কবে থেকে পাঠদান শুরু হবে তাও কেউ জানেন না। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন। শিগগিরই এ অচলবস্থার নিরসন চান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

শিক্ষকরা জানান, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় শিফটের পাঠদানের জন্যে সরকার শিক্ষক ও কর্মচারিদের ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী মূল বেতনের ৫০ শতাংশ প্রদান করে আসছিল। চার বছর ধরে তারা এ সুবিধা পেয়েছেন। গত ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে সরকার ওই পে-স্কেল বন্ধ করে প্রত্যেকের জন্যে একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এতে অতিরিক্ত পাওয়া বেতন-ভাতা গড়ে অর্ধেকে নেমে যাচ্ছে। যে কারণে শিক্ষক ও কর্মচারিদের সংগঠন থেকে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে। ওই দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। সরকার শিক্ষক-কর্মচারিদের এ দাবি না মানায় তারা দ্বিতীয় শিফটের পাঠদানসহ সব ধরণের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারকে আমরা দুইটি অপশান (বিকল্প) দিয়েছি। সেটা হলো- পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের দ্বিতীয় শিফট পরিচালনার জন্যে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হোক। অন্যথায় আমাদের দিয়ে এই শিফট চালাতে হলে পূর্বের ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী মূল বেতনের ৫০ শতাংশ প্রদান বহাল রাখতে হবে। এ দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা দ্বিতীয় শিফটের পাঠদান-পরীক্ষাসহ কোনো ধরণের কার্যক্রমে অংশ নেবনা। এটা আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত।’

যশোর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট সূত্রে জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানে সাতটি বিভাগে তিন হাজার ৬০৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এরমধ্যে এক হাজার ৮৪৭ জন প্রথম শিফট ও এক হাজার ৭৫৬ জন দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় শিফটের জন্যে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে ৫৯৪ জন ভর্তি হয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস হওয়ার নির্ধারিত দিন ছিলো গত ১ আগস্ট। শিক্ষার্থীরা এদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে বসে থেকে পরে বাড়িতে ফিরে গেছেন। কারণ কোনো শিক্ষকই তাদের শ্রেণী কক্ষে যাননি। তিনদিন ধরে তারা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন এবং আসছেন। কিন্তু কোনো পাঠদান হচ্ছে না। কবে হবে তাও কেউ জানেন না।

নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী যশোরের শার্শা উপজেলার নাইমুল হাসান বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে যশোর ইন্সটিটিউটে কম্পিউটার বিভাগে নতুন ভর্তি হয়েছি। ১ আগস্ট ওরিয়েন্টেশন ক্লাস হওয়ার কথা ছিলো। আমরা গিয়ে কোনো শিক্ষককে পাইনি। শুনেছি, শিক্ষকেরা আন্দোলন করছেন। কবে থেকে পাঠদান শুরু হবে তাও কেউ বলতে পারছেন না। যে কারণে আমাদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেলো।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমার ভাগনেকে সরকারি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছি। কিন্তু শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে পাঠদান হচ্ছে না। আমরা হতাশ হচ্ছি।’ দ্রুত সমস্যার সমাধান করে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে যশোর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ জিএম আজিজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মচারীরা দ্বিতীয় শিফটের পাঠদানসহ সব ধরনের কার্যক্রম চারদিন ধরে বন্ধ করে দিয়েছেন। সরকার তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ব্যাহত হবে। আশা করছি, শিগগিরই এই অচলাবস্থার নিরসন হবে।’