চৌগাছা হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা এখনও ১০ দিন পর

:: চৌগাছা প্রতিনিধি ::

যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা শুরু হবে এখনও ৮-১০ দিন পর। এ মুহূর্তে ডেঙ্গুর মত ভয়ানক একটি রোগের পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলাবাসী চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে চৌগাছায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনেরও বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) মাসুদ রানা বলেন, আমাদের এখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা হতে এখনও ৮-১০ দিন সময় লেগে যেতে পারে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এখনও ফান্ড হাতে আসতে এ সময় লেগে যাবে বলে তিনি জানান। ইমার্জেন্সি বিষয়কে ইমার্জেন্সি হিসেবে দেখতে হবে। তাহলে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে ডেঙ্গু শনাক্তের ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালে জ¦রের রোগী আসলে তাদের হাসপাতালের সামনে অবস্থিত কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার জন্য পাঠানোর অভিযোগ করছেন রোগীর স্বজনরা। সেখানে গিয়ে তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের প্ররোচনায় ডেঙ্গু পরীক্ষার কৌশলে তাদের আরো অপ্রয়োজনী নানা রকম পরীক্ষা করতে হচ্ছে। রোগীরা ভয়ে এবং অসহায় হয়ে এসব পরীক্ষা করাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে উপজেলার মোট ১৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত এক মাসের মধ্যে যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন তারা হলেন, হায়াতপুর গ্রামের কৃষ্ণ (৩৯), রাব্বানীর ছেলে সামছুর রহমান (৩৫), টেঙ্গুরপুর গ্রামের পারুল বেগম (৩৬), পৌর শহরের নিরিবিলি পাড়ার চয়ন কুমার (২২), উপজেলা পাড়ার হাসানুর রহমান (৩৫), তরিকুল ইসলাম (২৭), হাজরাখানা গ্রামের স্বপন কুমার (৩০), মাড়ুয়া গ্রামের ফেরদৌস হোসেন (১৯), খড়িঞ্চা গ্রামের পরাণ কুমার (৫০), আড়পাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেন (২৮), আরাজি সুলতানপুর গ্রামের ইমদাদুল হক (২৭) ও বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের জয়দেব কুমার (৪৫) ও পৌর শহরের আম্রকাননপাড়ার ফজলুর রহমানের মেয়ে তুয়া (৯)।

চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাহিদ সেরাজি বলেন, চৌগাছা মডেল হাসপাতাল হওয়ায় আশপাশের ৫-৭টি উপজেলার রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। সে কারণে হাসপাতালটিতে খুব দ্রুত শনাক্তকরণ কিট সরবরাহ হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।