যশোরে গরম মসলার দাম চড়া

:: মুর্শিদুল আজিম হিরু ::
ঈদুল আজহা সামনে রেখে মুদি দোকানগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে ক্রেতাদের। ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের প্রথম চাহিদা গরম মসলা। কিন্তু বাজারে মসলার দাম বেশ চড়া। অপরিবর্তিত আছে শাক-সবজি, চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ-রসুন মরিচের দাম। বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অন্যান্য মাছের দামও বেশ চড়া।

বৃহস্পতিবার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

যশোর শহরের গোহাটা রোডের মেসার্স দুলাল পাল এন্ড ব্রাদার্স ও পবিত্র ভান্ডারের প্রকাশ কুমার সাহা জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাজারে মসলার সরবরাহ প্রচুর। তারপরও গত বছরের চেয়ে মসলার দাম অনেক বেশি। আমদানি নির্ভর এ পণ্যের দাম সব সময় উঠা নামা করে। মসলার পাইকারি দামের চেয়ে খুচরা দামের ব্যবধানটা বেশ। প্রতি কেজি এলাচ পাইকারি বিক্রি হয় ২২০০ টাকা থেকে ২৬০০ টাকা। সেখানে খুচরা দোকানে প্রতি ১০০ গ্রাম এলাচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা। ৮২০ টাকা থেকে ৮৮০টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি লবঙ্গ। ১২০টাকা বিক্রি হয় প্রতি ১০০ গ্রাম লবঙ্গ। প্রতি কেজি দারুচিনি ৩৬০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা। প্রতি ১০০ গ্রাম দারুচিনি ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। ৩১০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা কেজি জিরে। ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকা প্রতি ১০০ গ্রাম। প্রতি কেজি কিসমিস পাইকারি ২৬০ থেকে ২২০ টাকা। প্রতি ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা।

আষাঢ়-শ্রাবণ ইলিশ মাছের মৌসুম। নিম্নচাপের ফলে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সরবরাহ অনেক কম। ইলিশ মাছের দামও অনেক বেশি। নিম্নচাপ কেটে গেলে ইলিশ মাছের সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যাবে বলে জানিয়েছেন বড় বাজারের ইলিশ মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হানিফ। প্রতি কেজি বড় ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। মাঝারি সাইজের ইলিশ সাড়ে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি। জাটকা ইলিশ ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা। অন্যান্য মাছের মধ্যে প্রতি কেজি রুই মাছ ২২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা। পাঙ্গাস ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা। কৈ মাছ ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়া।

বাজারে আদার দামও চড়া। পেঁয়াজ-রসুন, মরিচ, ও আলুর দাম আগের মত আছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় ৬০ টাকা। ৩৬ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় দেশি পেঁয়াজ। ২৮ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় আমদানিকৃত পেঁয়াজ। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হয় ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা। আমদানিকৃত রসুন বিক্রি হয় ১৪০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয় ১৮ টাকা থেকে ২০ টাকা। ২০০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয় দেশি-বিদেশি আদা। প্রতি কেজি শুকনো মরিচ বিক্রি হয় ২২০টাকা থেকে ২৪০ টাকা কেজি।

বাজারে শাক-সবজির দাম ঊর্ধ্বদামে অপরিবর্তিত আছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয় ৫০ টাকা। ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় কুমড়া। প্রতি কেজি কুশি বিক্রি হয় ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা। ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ধেঢ়স। প্রতি কেজি পটল বিক্রি হয় ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় বরবটি। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হয় ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় করোলা উচ্ছে। প্রতি কেজি ডাটা বিক্রি হয় ২০ টাকা। ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় পুঁইশাক। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয় ৭০ টাকা। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কচুরলতি। প্রতি কেজি কলা বিক্রি হয় ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা। ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ধুন্দল। ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ঝিঙে। প্রতি কেজি কাঁকরোল বিক্রি হয় ৫০ টাকা। ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কচুরমুখি। প্রতি কেজি ওল বিক্রি হয় ৫০ টাকা।
বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়েনি। প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ৮৫ টাকা থেকে ৮৭ টাকা। ৭৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় সুপার পাম তেল। প্রতি কেজি পাম তেল বিক্রি হয় ৭০ টাকা।

বাজারে অপরিবর্তিত আছে ডালের দাম। প্রতি কেজি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হয় ৯০ টাকা থেকে ৯৫ টাকা। ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা বিক্রি হয় আমদানিকৃত মসুর ডাল। প্রতি কেজি ছোলার ডাল বিক্রি হয় ৮০ টাকা। ৩৫ টাকা থেকে ৩৮ টাকা কেজি বিক্রি হয় বুটের ডাল। প্রতি কেজি মুগের ডাল বিক্রি হয় ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। ৫৫ টাকা ৫৮ কেজি বিক্রি হয় কলাইয়ের ডাল।

বাজারে চালের দাম আগের মত আছে। প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হয় ২৫ টাকা থেকে ২৬ টাকা। ২৭ টাকা থেকে ২৮ টাকা কেজি বিক্রি হয় আমদানিকৃত মোটা চাল। প্রতি কেজি বিআর-১০ চাল বিক্রি হয় ৩১ টাকা থেকে ৩২ টাকা। ৩০ টাকা থেকে ৩১ টাকা কেজি বিক্রি হয় রনজিৎ চাল। প্রতি কেজি বিআর-২৮ ও কাজল লতা চাল বিক্রি হয় ৩৪ টাকা থেকে ৩৬ টাকা। ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় মিনিকেট চাল।