ঈদযাত্রায় যশোর-খুলনা ও যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে ভোগান্তি চরমে

ফাইল ফটো

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
আর মাত্র একদিন পরেই পবিত্র ঈদ। তবে এবারের ঈদে যশোর-খুলনা ও যশোর-বেনাপোল সড়কে মানুষের যাত্রায় তীব্র ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। উল্লিখিত সড়কে সংস্কার কাজ চলমান থাকায় মানুষের এই দুর্ভোগ।

যশোর-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের মণিহার প্রেক্ষাগৃহ ও বকচর এলাকার অন্তত দেড় কিলোমিটারে বিটুমিনের উপরে ইটের বিছানা বসানো রয়েছে দেড় বছর ধরে। বেহাল মহাসড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী রাখতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বিটুমিনের উপরে ইট বিছিয়ে দেয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। দুই বছরেও সড়কের এ বেহাল অংশটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। হেলে দুলে যানবাহন চলাচলের কারণে ব্যস্ততম ওই মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ঈদ যাত্রায় মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর শহরের মণিহার প্রেক্ষাগৃহ এলাকার ফলপট্টি ও বকচর এলাকার র‌্যাব কার্যালয়ের সামনে অন্তত দেড় কিলোমিটার জুড়ে বিটুমিনের মহাসড়কের উপরে ইটের বিছানা বসানো রয়েছে। ওই বিছানাও টেকেনি। যানবাহনের চাকায় ইটের বিছানাও ‘ছেঁড়া কাঁথা’য় রূপ নিয়েছে। মাঝেমধ্যে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই এলাকা দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে হেলে দুলে। সব সময় ধুলায় আচ্ছন্ন থাকছে গোটা এলাকা। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহনের যাত্রী সবাইকেই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

মোটরপার্টস আমদানিকারক মুরাদ হোসেন বলেন, এ এলাকার রাস্তা টিকছে না। রাস্তা খুঁড়ে মেরামত করার ছয় মাসের মধ্যেই পিচ ওঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এরপর ইট বিছিয়ে ওই রাস্তা সংস্কার করা হয়। এ রাস্তার পানি বের হওয়ার জন্যে কোনো ড্রেনের ব্যবস্থা নেই। ফলে বৃষ্টির সময় পানি রাস্তার পাশে আটকে থাকে। যে কারণে পিচ নষ্ট হয়ে যায়। এখন তো ধুলোয় আমরা দোকানে বসতেই পারি না।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পালবাড়ি-দড়াটানা-মনিহার-মুড়লি মহাসড়ক পুনঃনির্মাণের জন্যে পৌনে সাত কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে যশোর শহরের মঈনউদ্দীন বাঁশি নামে একজন ঠিকাদারকে কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৬ সালে কাজ বুঝিয়ে দেয়।

স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কাজ বুঝিয়ে দেয়ার বছর খানেকের মধ্যেই ওই সড়কের মনিহার থেকে বকচর পর্যন্ত দুই কিলোমিটার অংশে সড়কের মাঝখান ফুলে-ফেঁপে বড় ঢিবি হয়ে যায়। কিছুদিন পরে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। ঢিবিতে যানবাহনের নিচের অংশ আটকে যায়। ঘটতে থাকে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সওজ বিভাগ থেকে ওই রাস্তার মাটি পরীক্ষা করা হয়। এ রাস্তা দিয়ে খুলনা, ঢাকা, কুষ্টিয়াসহ আঞ্চলিক পথের বাস-ট্রাক চলাচল করে। এছাড়া নওয়াপাড়া বন্দরের সারবোঝাই ট্রাকও এ সড়ক দিয়ে যায় উত্তর বঙ্গে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১২০ ফুট চওড়া ওই মহাসড়কের মাত্র ২৪ ফুটের মধ্যে বিটুমিনের রাস্তা করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশের বাকি অংশ অবৈধ দখলদারদের কব্জায় চলে গেছে। সড়কের দুই পাশ দখল করে ব্যবসায়ীরা পুরানো বাস-ট্রাক ভাঙচুর ও যানবাহনের নতুন কাঠামো তৈরির কাজ করে। এ ছাড়া সড়কের উপরে সারি সারি ট্রাক পার্ক করে রাখা হচ্ছে। এতে সড়কটি ছোট হয়ে মানুষের চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মনিহার বকচর এলাকায় শত শত যানবাহনের জট লেগেই থাকছে।

বর্তমানে যশোর-খুলনা সড়কের ৩৮ কিলোমিটার সড়কে ৩২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ চলছে।

একই সাথে যশোর-বেনাপোল সড়কেও ৩৮ কিলোমিটার সংস্কারকাজ চলছে।

সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ সফিকুন্নবী জানান, সড়কগুলোর নির্মাণকাজ চলমান থাকায় মানুষের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে ২০২০ সালের শেষের দিকে সড়ক সংস্কার সমপন্ন হলে মানুষ সুবিধা পাবে। আমরা দুর্ভোগ কমাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

নওয়াপাড়ার বাসিন্দা ফারুক হোসেন জানান, ৮ আগস্ট ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে যশোর শহর থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত ঝাঁকুনিতে শরীর ব্যাথা হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে সওজ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, যশোর-খুলনা মহাসড়কের ওই অংশের মাটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ওই অংশের মাটি খারাপ। সড়কের বেজমেন্টও খুব দুর্বল। যে কারণে ওই অংশটি টিকছে না। তবে ইট বিছিয়ে দেয়ার পর থেকে যানবাহন আটকে থাকার মত খারাপ অবস্থা আর হয়নি।

তিনি বলেন, আশা কথা হচ্ছে। ওই মহাসড়কের মনিহার থেকে মুড়–লি মোড় পর্যন্ত পৌনে তিন কিলোমিটার চার লেনে উন্নীত করার জন্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ওই প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশন ঘুরে একনেটের বৈঠকে ওঠার অপেক্ষা রয়েছে। মহাসড়কের ওই অংশটুকু চার লেনে উন্নীত হলে ব্যস্ততম ওই সড়কের যানজট সমস্যা নিরসন হবে। মানুষের ভোগান্তিও কমবে। একই সাথে ওই দুটি মহাসড়কের নির্মাণকাজ চলছে। ধুলোর হাত থেকে বাঁচতে পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলে মানুষের দুর্ভোগ বলে কিছু থাকবে না। তারপরও আমরা আসন্ন ঈদে মানুষ যাতে দুর্ভোগে না পড়ে সেজন্য রাস্তা কেটে সমান করার চেষ্টা চলছে।