মেয়ে সাজে হৃদয়!

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
পরনে শাড়ি-ব্লাউজ। কপালে টিপ। লম্বা চুলগুলো বাঁধা সুন্দর করে। পায়ে মেয়েদের স্যান্ডেল। হাতে ও পায়ের আঙুলে আংটি জাতীয় রিং। মুখমণ্ডল দর্শনীয়। প্রথম দর্শনে মনে হবে একজন নারী। কিন্তু কণ্ঠস্বর শুনে ভিমড়ি খাওয়ার অবস্থা। মনে হতে পারে হিজড়া। কিন্তু তাও না।

পুরোপুরি একজন পুরুষ। বয়স ২০। নাম হৃদয় মোল্লা। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের লাল্টু মোল্লার ছেলে। কিন্তু যশোরের হিজড়াদের একটি গ্রুপ ঠিকই চিনতে পারে তাকে। প্রথমে উত্তম-মধ্যম এবং পরে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয় তাকে।

চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার রেশমা নামে এক হিজড়া একটি লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া তারামন্দির এলাকায় একজন পুরুষ তার পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়া হওয়ার জন্য এসেছে। রেলগেট এলাকার শামসু ড্রাইভার, হিজড়া চুমকি ওরফে জাকির, বারান্দীপাড়া মাঠপাড়ার সোহেলী হিজড়া, কিসমত নওয়াপাড়ার ভাবনা হিজড়া ও শেখহাটির স্বর্ণা হিজড়াসহ অজ্ঞাত আরও অনেকে তার পুরুষাঙ্গ কেটে মেয়ে হিজড়া বানানোর জন্য সাতক্ষীরা থেকে যশোরে নিয়ে এসেছে।

মেয়ে হিজড়া হলে সে অনেক টাকা আয় করতে পারবে এসব লোভ দেখিয়ে তাকে আনা হয়। পরে হিজড়াদের অপর গ্রুপ জানতে পেরে হৃদয়কে একটি স্থানে ধরে নিয়ে গিয়ে উলঙ্গ করে ভিডিও করে তা সংবাদকর্মীদের কাছে সরবরাহ করে। একই সাথে হৃদয়কে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
হৃদয় বলেন, যশোরের সব হিজড়া প্রথমে পুরুষ ছিলো। পরে পুরুষাঙ্গ কেটে মেয়ে হিজড়া হয়েছে। আমি পুরুষাঙ্গ কাটলে ওদের সমস্যা কী?

কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, হিজড়াদের একটি গ্রুপ হৃদয় নামে একজনকে ধরে থানায় দিয়েছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবো তা বলতে পারছি না। তাকে ছেড়ে দেয়া ছাড়া কোনো পথও দেখছি না।