ওরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেই সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে

:: ইয়ানূর রহমান ও শেখ কাজিম উদ্দিন ::
যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন বলেছেন ওরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেই সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে চিরতরে বিলীন করে দেয়া যাবে। নিভে যাবে এদেশের আলোক শিখা। মেরুদণ্ডহীন জাতি হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রের কোনো এক স্থানে ঠাঁই মিলবে ৭১’এ স্বাধীন হওয়া সম্ভাবনাময়ী বাংলাদেশের। তাইতো তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির ধানমন্ডিস্থ বাসভবন ঘিরে ফেলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ স্বপরিবার এবং তাঁর ব্যক্তিগত কর্মচারীদের নির্মমভাবে হত্যা করে ইতিহাসের পাতায় এক কালো অধ্যায়ের জন্ম দেয়।

বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী শার্শা উপজেলা প্রশাসনসহ বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগ ও পুটখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূলক কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শেখ আফিল উদ্দিন এমপি আরো বলেন, সেদিন ওরা ভাবেনি “বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ”। ওরা ভাবেনি বাংলাদেশে যদি সভ্য চেতনার একটি মানুষও বেঁচে থাকে তাহলে একদিন লক্ষ কোটি মুজিব মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। “রাখে আল্লাহ মারে কে” মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে কেবল তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করার কারণে বেঁচে যান। আল্লাহ পরম দয়ালু। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সভানেত্রী এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, ১৯৭১’র স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধ বিধ্বস্ত জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন। সে অনুযায়ী রাষ্ট্র চালনার চেষ্টা সত্ত্বেও তীব্র দারিদ্র্যতা, বেকারত্ব, সর্বব্যাপী অরাজকতা এবং সেই সাথে ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। সকল বাধাবিপত্তি পেরিয়ে তিনি যখন বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে লাগলেন ঠিক সে সময়ে এদেশের উন্নয়নকে থমকে দেয়ার জন্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল পাকিস্তানি পেতাত্মাদের হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন। ক্ষমতার অপব্যবহারে দেশটিকে তারা মেরুদণ্ডহীন জাতিতে রূপান্তরিত করে ফেলে। কিন্তু ইতিহাস বড়ই নির্মম। ১৯৯৬ সালে শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনরায় দল গঠনপূর্বক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে। হাটি হাটি পা-পা করে বাংলাদেশের উন্নয়ন সাধন করার চেষ্টা করেন। সেখানেও থমকে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ সত্যিকারের সোনার বাংলায় রূপান্তরিতের পথে। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের রোলমডেল। বর্তমান নেতৃত্ব অব্যাহত থাকলে অচিরেই আমরা হবো উন্নত দেশের বাসিন্দা বলে জানালেন সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন।

আলোচনাসভার পূর্বে শোকর‌্যালি, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও পরে দোয়া কামনা করা হয়।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৌসুমি জেরিন কান্তা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, সাধারণ সম্পাদক রাসেলসহ আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত শাহাদতবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ এনামুল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নাসির উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মহাতাব উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান ঘেনা, প্রচার সম্পাদক আকবার আলী, যুবলীগ নেতা জসীম উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি আল মামুন জোয়াদ্দার, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, সাবেক সহসভাপতি আল ইমরান, সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন রুবেলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।

পুটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত শাহাদতবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামানসহ পুটখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।