‘ওরা যেন ফিরে যায় ছাত্রজীবনে’

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বৃষ্টি ভেজা বেলা ১২টা। স্কুলে ঢুকতেই দেখা গেলো মাঠের এক পাশে রঙিন কাপড়ের ছামিয়ানা দিয়ে ঘেরা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চেয়ারগুলো নিয়ে যে যার মত গ্রুপ করে বসে আছে। করছে হইহুল্লোড়। স্মৃতির ডানায় ভর করে সবাই যেন ফিরে গিয়েছিলো ছাত্রজীবন সেই ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সালে। দুষ্টুমিতে বার বার ফিরে আসছিল গত হয়ে যাওয়া সব আড্ডার টুকরো টুকরো গল্প।

সবাই যেনো হারিয়ে ফেলা মুখগুলো দেখে চমকে উঠেছিলেন। বলছিলাম যশোরের শার্শার বুরুজ বাগান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি-২০০২ ব্যাচের পুনর্মিলনীর কথা। বুধবার বৃষ্টি বিঘ্নিত সকাল থেকে শান্ত বুরুজ বাগান হাইস্কুল মাঠ প্রাঙ্গন মুখরিত হয়ে উঠেছিল সাবেকদের আনাগোনায়। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে পিছনের সময়গুলো ফিরিয়ে আনতে চাইছিলেন সবাই।

অনুষ্ঠানে সবাই-ই যেনো প্রধান অতিথি। বন্ধুদের পেয়ে খানিক সময়ের জন্য হলেও সবকিছু ভুলে গিয়েছিলো সবাই।

খোশ গল্পে মেতে ছিলেন হাজিরবাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির। বলছিলেন, তার বাড়ি বেশ দূরে হওয়ায় স্কুলে বোডিংয়ে থাকতেন। একক কোনো শিক্ষককে প্রাধান্য না দিয়ে বোডিংয়ে থাকার সুবাদে সকল শিক্ষকের সঙ্গেই তার সখ্যতার কথা তিনি বিভিন্ন ছলে বলছিলেন। নৈশ প্রহরি শিল্পি ভাইয়ের কথাও তিনি বার বার স্মরণ করছিলেন।

বন্ধুদের এ পুনর্মিলনীর উদ্যোক্তা বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত এএসআই ওলিদুর রহমান বাচ্চু। এক বন্ধুকে আয়োজনস্থলে আসতে দেখেই বলে উঠেন, ‘ওই দেখ বন্ধু উজ্জ্বল এসেছে। এতো দেরি করলি কেন? সেই ৩ ঘণ্টা ধরে তোদের জন্য অপেক্ষা করছি। কী খবর বল? কত দিন দেখা হয়নি…’

অপর এক বন্ধু আক্তার হোসেন। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তিনি ব্যস্ত কোলাকুলিতে।

২০০২ সালে এ স্কুল থেকে এসএসসি দেয়া একজন মাসুদুর রহমান টিটু। তিনি এ স্কুলেই সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার গল্পে তিনি মোটামুটিভাবে অতীত আর বর্তমানে স্কুলে পরিবর্তনগুলোর সুস্পষ্ট ধারণা দিচ্ছেন।

তরুণ শিল্পপতি মো. শান্ত ব্যবসায়ীক ব্যস্ততার কারণে ঈদ কী আর সরকারি ছুটি কী; কোনো সময়েই দম ফেলার সময় নেই তার। তবুও তিনি বন্ধুদের আমন্ত্রণে ছুটে এসেছেন। একটু পর পর ব্যবসায়ীক ফোন কল আসলেও সেদিকে যেনো খেয়ালই নেই তার। স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে আসতেই বর্তমানে ব্যবসায়ী উজ্জ্বল হোসেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, এ মাঠে পিটি করতে গিয়ে ক্রীড়া শিক্ষক নূর মোহাম্মদ স্যারের কাছে কত মার যে খেয়েছি। সে সময়টাই তার কাছে জীবনের সেরা সময় ছিলো বলেও যোগ করেন তিনি।

আশরাফ হোসেন, পিডিবিএফ প্রধান কার্যালয়, ঢাকায় কর্মরত। ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন ও আরিফুজ্জামান সুমনকে একটু এগিয়ে গেলেই দেখা মিললো। তিন বন্ধুর হাসি-ঠাট্টা যেনো কোনো মতেই ফুরাচ্ছে না।

দুপুর ১২টার দিকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে এক আনন্দ র‌্যালি বের করেন তারা। র‌্যালিটি স্কুল মাঠ থেকে শুরু হয়ে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার মাঠে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে কেক কাটার মাধ্যমে উল্লাসে মেতে উঠেন বন্ধুরা। শেষে মধ্যাহ্নভোজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।