নানার কিডনিতে বাঁচবে নাতি, প্রতিস্থাপনে লাগবে ৭ লাখ টাকা

নাতি শামিম

:: জামির হোসেন, কালীগঞ্জ ::
দু’টি কিডনিই নষ্ট। তাই একমাত্র আদরের নাতি শামিমের জীবন বাঁচাতে নিজেই একটি কিডনি দিতে রাজি হয়েছেন তার নানা। কিন্তু ওই কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন প্রায় ৭ লাখ টাকা। এ টাকা জোগাড় করতে না পারায় এখন বিছানায় মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে অসহায় যুবক শামিম।

তাইতো স্বামীকে বাঁচাতে ওই খরচের টাকা জোগাড়ে স্ত্রী ঘুরছেন সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে।
হতদরিদ্র কৃষকের একমাত্র ছেলে শামিম। পরিবারের সুখ শান্তির জন্য স্ত্রী, বাবা, মা, ভাই-বোনকে ফেলে গিয়েছিল সিঙ্গাপুর। কিন্তু সেখানেও সুখ তার কপালে জোটেনি। সিঙ্গাপুর যাওয়ার পর প্রায়ই জ্বরে ভুগে অসুস্থ হয়ে পড়তো। বাধ্য হয়েই তাকে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসতে হয়।

এরপরই দেশে ডাক্তারি পরীক্ষা করে জানতে পারে, তার দু’টো কিডনির ৯০ ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের দিনমজুর জুলহক বিশ্বাসের ছেলে শামিমের চিকিৎসার অভাবে এখন জীবন প্রদীপ নিভে যেতে চলেছে।

শামিমের বাবা হতদরিদ্্র কৃষক জুলহক জানান, সহায় সম্বল বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। তার শারীরিক সমস্যায় দেশে ফিরে আসার পর কিডনি সমস্যা ধরা পড়ে। কিডনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারা বলেছেন, শামিমের দুটি কিডনিই ৯০ ভাগই অকেজো। বর্তমানে ডায়ালসিসের মাধ্যমে সে বেঁচে আছে। কিন্তু ব্যয়বহুল খরচে আর কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তার পরিবার। এদিকে আত্মীয় স্বজনদের দেয়া সহযোগিতাও কমে এসেছে।

শামিমের স্ত্রী যশোর এমএম কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী ঝুমুর কান্না জড়িত কণ্ঠে জানায়, তার বিয়ের এক বছর পর ২০১৭ সালে অনেক ধার দেনা করে শামিমকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিল। কিন্তু সিঙ্গাপুর যাওয়ার বছর না পেরুতেই অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরত আসে শামিম।
শামিমের স্ত্রী আরো জানায়, সেই থেকেই ভিটে মাটি বিক্রি ও আত্মীয়-স্বজনদের আর্থিক সহায়তায় ডায়ালসিস করে আসছে।

সর্বশেষ ঢাকা হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের এক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখালে তিনি শামিমকে বাঁচিয়ে রাখতে দ্রুত অন্তত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছেন। এরপর বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগের পর সর্বশেষ শামিমের নানা তার আদরের নাতিকে একটি কিডনি দান করতে রাজি হয়েছেন। যা প্রতিস্থাপনে দরকার প্রায় ৭ লাখ টাকা। কিন্তু এ পর্যন্ত শামিমের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তার পরিবার। এ অবস্থায় শামিমের চিকিৎসায় এগিয়ে আসতে সমাজের দানশীল ব্যক্তিসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

শামিমের সঙ্গে যোগাযোগের ঠিকানা: মো. শামিম রেজা, পিতা: মো. জুলহক বিশ^াস, গ্রাম: রঘুনাথপুর, উপজেলা: কালীগঞ্জ, জেলা: ঝিনাইদহ, মোবাইল নম্বর ০১৮২০৯৯২৭৫০।