বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: কাজী নাবিল এমপি

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
যশোরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদতবার্ষিকী স্মরণে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ৬ দফার সাথে আপোশ করলে বঙ্গবন্ধু হতে পারতেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কিন্তু তিনি কখনোই প্রধানমন্ত্রীর লোভে বাঙালি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি।

নাবিল আহমেদ বলেন, দেশ স্বাধীনের পরে অনেক দেশ বঙ্গবন্ধুকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা জানালেও এই জাতির প্রতি অগাধ বিশ্বাসের কারণে কারো কথায় কর্ণপাত করেননি তিনি।

কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, আজকে আমরা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথে ধাবিত হয়েছি। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সকলকে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন এ আলোচনাসভার আয়োজন করে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম রফিকুন্নবী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার, যুদ্ধকালিন মুজিব বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন মনি, উপ-প্রধান রবিউল আলম ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান।

সভায় শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকে ২১ বছর জাতীয় প্রচার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উচ্চারণ হতো না। সেদিনও আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেছি। এখন অনেকে আছে ঘটনা ঘটলে পালিয়ে যাবে কিন্তু আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।

এএসএম রফিকুন্নবী বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান তিনি ৭১ সালে সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন বলেই একটা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে পেরেছিলেন।

সালাইদ্দিন শিকদার বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাটা জীবন শুধুই দিয়ে গেছেন আর পেয়েছেন মানুষের ভালোবাসা। তিনি বলেন যে দেশপ্রেমিক সে কখনোই বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করতে পারবেনা।
আলী হোসেন মনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষকে যেমন ভালো বাসতেন তেমনি বিশ্বাসও করতেন। তাঁকে সাবধান হওয়ার কথা বললে তিনি বলতেন আমার সন্তানরা আমাকে কিছুই করবে না।

রবিউল আলম বলেন, মক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য ধ্বংস করতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। মহান এই নেতার মৃত্যুতে যে ক্ষতি হয়েছে তা আর কখনোই পূরণ হবে না।

রাজেক আহমেদ বলেন, কতিপয় সেনা সদস্য নয় আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে মহান এই নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। অলোচনা সভার আগে কালেক্টরেট চত্বর থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক শোক শোভাযাত্রা বের হয় এবং শহর প্রদক্ষিণ করে বকুল তলাস্থ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ম্যুরালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্যদিয়ে শেষ হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, পুলিশ সুপার মঈনুল হক এই শোক শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন।