এখনো চক্রান্ত আছে, নেতাকর্মীদের সর্তক থাকতে হবে: নেতৃবৃন্দ

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোরে ‌জাতীয় শোক দিবস স্মরণে এক আলোচনাসভায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনার ফসল হচ্ছে ৭৫ এর ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা। যে মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধু জাতির মুক্তি সংগ্রামে থেকে ১৪ বছর কারাবরণ করেছেন এবং দেশ স্বাধীনের পরে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যে যখন নতুন করে সংগ্রামে লিপ্ত সেই সময় তাঁকে হত্যা করা হয়। স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ইতিহাসের নির্মম এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় আর এর নেপথ্যে ছিল মেজর জিয়া।

নেতৃবৃন্দ বলেন, জিয়া বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল। এখনো চক্রান্ত আছে এর জন্যে দলীয় নেতাকর্মিকে সতর্ক থাকতে হবে।

শনিবার দুপুরে জেলা যুবমহিলালীগের উদ্যোগে শহরে গাড়ি খানা সড়কে আলোচনাসভার আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন এবং প্রধান বক্তা ছিলেন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ।

বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, আওয়ামী লীগ নেতা মোকাররম হোসেন টিপু ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বিপুল।

এছাড়াও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ’জাতীয় শোক দিবস’ স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার যশোরের বিভিন্নস্থানে পালিত হয়েছে কর্মসূচি। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনাসভা, দোয়া মাহফিল, খাবার বিতরণ এবং মাইকে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার।

পৌরসভার বেজপাড়া, ভোলাট্যাংরোড, সার্কিট হাউজের সামনে, বাবলাতলার মোড়, ঢাকা রোড মোল্যাপাড়ার মোড়, নবকিশলয় স্কুলের সামনে, রেলস্টেশন বাজার, সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাজারহাট বাজার, কাশিমপুর ইউনিয়নের নূরপুর বাজার, আরবপুর মোড়, চাঁচড়া বাজার, নতুন উপশহর ইউনিয়নের বি ব্লাক বাজারে, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচিতে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং খাবার বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

এসময় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বিদেশে থাকায় বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা প্রাণে রক্ষা পেলেও ২০০৫ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সেদিনও নেত্রী প্রাণে রক্ষা পেলেও মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মিকে হত্যা করা হয়।

আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, এখনো চক্রান্ত অব্যাহত আছে তার জন্যে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, সহসভাপতি একেএম খয়রাত হোসেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নূর জাহান ইসলাম নিরা, কৃষি সম্পাদক মোশারফ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মাহামুদ হাসান বিপু, ফারুক আহমেদ কচি, জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, সহসভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুদ্দিন মিঠু, জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।