যশোরে বাবা ও সৎ মায়ের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগ

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের দৌলতদিহিতে এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত মাহাবুর হোসেন (৪) ওই গ্রামের রহমানের ছেলে। তবে মাহাবুরের বাবার দাবি শ্বাসকষ্টের কারণে তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে মা জ্যোৎস্না বেগম ও মামা ইসমাইলের অভিযোগ, বাবা রহমান ও সৎ মা চান্দিনা বেগম মাহাবুরকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। শনিবার যশোর ২৫০ শয্যার যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত মাহাবুরের মামা ইসমাইল হোসেন জানান, ৭-৮ বছর আগে আব্দুর রহমান প্রথম স্ত্রী চান্দিনাকে তালাক দিয়ে চৌগাছা উপজেলার কাকুড়িয়া গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে নিহত মাহাবুরের মা জ্যোৎস্না বেগমকে বিয়ে করে। দাম্পত্য জীবনে তাদের মাহবুর (৪) ও মিম (১) নামে দুটি সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু শাশুড়ি আয়েশা বেগমের সাথে জ্যোৎস্নার বনিবনা হয় না। এরই মধ্যে মা আয়েশা বেগমের কথা মতো আব্দুর রহমান জ্যোৎস্নাকে ৬-৭ মাস আগে তালাক দিয়ে বড় স্ত্রী চান্দিনাকে আবার বিয়ে করে এবং রহমান তার শিশু ছেলে মাহাবুরকে মা জ্যোৎস্নার কাছে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেয়।

জ্যোৎস্না বেগম বলেন, রহমান দোকানে যাওয়ার পর সৎ মা চান্দিনা ও দাদি আয়েশা বেগম মাহাবুরকে প্রায় মারপিট করতো। তাকে ঠিক মতো খেতে দেয়া হতো না। তারা সুযোগ খুঁজতে থাকতো কিভাবে মাহাবুরকে বাড়ি থেকে সরানো যায়। এরই মধ্যে ঠান্ডা গরমের কারণে মাহাবুর একটু অসুস্থ হয়। মাহাবুরের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাবা রহমান ও সৎ মা চান্দিনা ওষুধের কথা বলে শিশু মাহবুরকে বিষ খাইয়ে দেয়। কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়।

জ্যোৎস্না বেগম ও ইসমাইলের অভিযোগ, শ্বাসকষ্টে মাহবুর মারা যায়নি। বাবা ও সৎ মা মিলে তাকে হত্যা করেছে।

তবে বাবা রহমান এই অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, শুক্রবার দুপুরে তার ছেলে মাহাবুর হঠাৎ করে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। সাতমাইল বাজারের এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধও আনা হয়। কিন্তু সেখান থেকে বাড়িতে আনার সাথেই আবারো তার ছেলের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

শ্বাসকষ্ট বাড়লেও কেনো তাকে হাসপাতালে নেয়া হলো না প্রশ্ন করা হলে রহমান জানান, তার ছেলের জন্ম থেকেই ওই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে দেখানো হয়। কিন্তু হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের নাম বলতে পারেনি রহমান।

এ বিষয়ে সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আনিচ জানান, শিশু মাহবুরের মৃত্যু নিয়ে দুই ধরণের দাবি উঠেছে। রাতে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।