নৌকার পক্ষে নির্বাচন করে বিপাকে নির্বাসখোলা আ.লীগের সভাপতি

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

‘৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করে চরম বিপাকে পড়েছি। আজ আমি ঘর ছাড়া। বাড়ি ছাড়া। নৌকার প্রতীকের প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় আমার ও আমার পরিবারের ওপর হুমকি ও থানায় মিথ্যা অভিযোগ করে প্রতিনিয়ত হয়রানি করা হচ্ছে। আমাকে ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের সমর্থকরা।’

সোমবার প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন যশোরের ঝিকরগাছার নির্বাসখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার আব্দুল খালেক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হই। ২০১৫ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। আওয়ামী লীগের সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনা বুকে ধারণ করে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য রাত-দিন কাজ করছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দলীয় সিদ্ধান্ত ও দলীয় প্রতীকের বাইরে কোনো নির্বাচন। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করেছিলাম।

তিনি বলেন, আমার গ্রামের সুবিধাবাদী ব্যক্তি মাহাবুর রহমান বিএনপি-জামায়াত আমলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোর্তুজা এলাহী টিপুর আস্থাভাজন হয়ে এলাকার অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে নির্যাতন করেছে এবং বিভিন্ন মামলা দিয়েছে। আনারস প্রতীক নিয়ে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচনে জয়ী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের আস্থাভাজন হয়েছে। এ পরিবারের নির্দিষ্ট কোনো দল নেই। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তারা তখন সেই দলের কর্মী হয়ে যায়। মাহাবুর রহমানের বাড়িতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড দিয়ে রেখেছে। সত্যিকার অর্থে এ পরিবার কোনো সদস্য আওয়ামী লীগের একনিষ্ট কর্মী ছিল না। টাকার জোরে নেতাদের কাছে চলে যায় এবং আস্থাভাজন হয়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর আনারস প্রতীকের নির্বাচনী খরচ বহন করে বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছে মাহাবুবুর রহমান। সেই সুযোগে গ্রামের বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের সংগঠিত করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং হয়রানি করছে। তাদের ইন্ধনে রাজার ডুমুরিয়া গ্রামের বিএনপির ক্যাডার সাবেক ইউপি সদস্য রিয়াজুল ইসলাম ও তার ভাই যুবদল নেতা ইবাদ আলী আমাকে এবং আমার ছেলে আরিফুর জামানকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

মাহাবুর রহমানের ইন্ধনে গ্রামের নুরুল হক আমার ও আমার ছেলে আরিফুর জামানের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানা ও শিত্তরদাহ ক্যাম্পে মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানি করছে। আমার গ্রামের বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোনো ক্রেতা আসলে তাদেরকে দোকানে আসতে নিষেধ করে তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা। দোকানের ঘর মালিককে আমার কাছে ঘরভাড়া না দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। একাধিক মামলা দেয়া হবে বলেও তারা প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নামে যে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে তাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছেন থানা কর্তৃপক্ষকে। আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তাকে ফোন করে কোনো ফল পাইনি বরং তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

মাস্টার আব্দুল খালেক বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। দলীয় কর্মী হিসেবে প্রতীক নৌকা মার্কায় নির্বাচন করায় বিভিন্নভাবে হুমকি ও মিথ্যা অভিযোগে হয়রানির স্বীকার হচ্ছি। তিনি এ থেকে পরিত্রাণ পেতে দলীয় হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাহান আলী, নজরুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ, মিলন হোসেন, মোজাফ্ফর হোসেন প্রমুখ।