ঘের ব্যবসায়ী ইমরোজ হত্যায় দুই আসামির আত্মসমর্পণ

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোরের ভাতুড়িয়ায় ঘের ব্যবসায়ী ইমামুল ওরফে ইমরোজ হত্যা মামলার মূল আসামি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মৎস্য ব্যবসায়ী সেলিম রেজা পান্নুসহ দুইজন গোপনে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পান্নু ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়ার মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

বুধবার এ দুই আসামি আইনজীবীর মাধ্যমে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পান্নু ছাড়া অপরজন হলেন, ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়া এলাকার ইয়াসিন বিশ্বাসের ছেলে আবু হেনা মোস্তাফা কামাল ওরফে সাগর।

এর আগে তারা উচ্চ আদালত থেকে এ মামলায় তিন সপ্তাহের জন্য অগ্রিম জামিন নেন। উচ্চ আদালতের জামিনের সময় শেষ হওয়ায় তারা বুধবার যশোরের আদালতে হাজিরা দেন।

এদিকে ইমরোজ হত্যা মামলার দুই আসামির আত্মসমর্পণের সংবাদ শুনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেন আদালতে যান এবং দুইজনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সাতদিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। তবে রিমান্ড শুনানি হয়নি।

উল্লেখ্য, ২৪ জুলাই দুপুরে চাঁচড়ার বিল হরিনার কালাবাঘার অদূরে একটি মাছের ঘেরের সামনে একটি মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া গুলিতে নিহত হন ঘের ব্যবসায়ী ইমরোজ। তিনিও একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুর ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

আসামিরা হলেন, ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়ার মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সেলিম রেজা পান্নু (৪৬), চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকার মৃত তৌহিদুল ইসলামের ছেলে আকিবুর (২৮), বাহাদুরপুর গ্রামের রহমানের ছেলে বর্তমানে ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়ার আনুর বাড়ির ভাড়াটিয়া মোস্তফা ওরফে মোস্ত (৩০), একই এলাকার মোহাম্মদ আলী, চাঁচড়া ডালমিল এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে রিংকু (২৩), চাঁচড়া মধ্যপাড়া শান্তি মেম্বারের বাড়ির পাশে মৃত ভগোর ছেলে স্বাধীন (২৪), ভাতুড়িয়া দাইপাড়ার শাহজাহানের ছেলে রহিম (২৭), চাঁচড়া গোলদারপাড়ার কানা খোকনের ছেলে শাহীন (২৪), বাবুর ছেলে রনি (১৯), ভাতুড়িয়া নারায়ণপুর গ্রামের এনামুল সরদারের ছেলে নাজমুল (১৯), ভাতুড়িয়া পশ্চিমপাড়ার রাজা মিয়ার ছেলে তানভীন (১৯), ঝাউদিয়ার হাফিজুর রহমানের ছেলে সজল (২২) এবং ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়ার ইয়াসিন বিশ্বাসের ছেলে আবু হেনা মোস্তফা কামাল সাগর (২৯)।

এ মামলায় আসামি মোস্ত, সজল, মোহাম্মদ আলী, রিংকু, স্বাধীন ও আব্দুর রহিমকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছিল। বুধবার বাকি দুইজন পান্নু ও সাগর আত্মসমর্পণ করায় এখন পর্যন্ত ৮জন আসামি জেল হাজতে আটক রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীম হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত ৮জন আসামি ইমরোজ হত্যা মামলায় জেল হাজতে আছে। পান্নু ও সাগরের বিরুদ্ধে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।