যশোর হাসপাতালে কর্মচারীর দায়িত্বহীনতায় হয়নি লাশের ময়না তদন্ত

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের এক কর্মচারীর দায়িত্বহীনতার কারণে লাশের ময়না তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘসময় নানাভাবে চেষ্টা করেও ময়না তদন্ত করাতে ব্যর্থ হয়ে স্বজনেরা বাড়ি ফিরে যান। দায়িত্বহীন কর্মচারীর এই খামখেয়ালিপনায় মর্গে দায়িত্বরত পুলিশ ও লাশের স্বজনদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মামা বজলুর রহমান জানান, তুচ্ছ ঘটনার জেরে তার ভাগ্নি যশোর সদর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের লাল্টুর মেয়ে তন্নি বৃহস্পতিবার সকালে বিষপান করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর আড়াইটার দিকে তন্নির মৃত্যু হয়। ওয়ার্ড থেকে মৃতদেহ পাঠানো হয় হাসপাতাল মর্গে।

সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য রুহুল আমিন জানান, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করার পর ময়না তদন্তের জন্য কাগজপত্র নিয়ে সাড়ে তিনটার দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী আসলামের রুমে যাওয়া হয়। এ সময় তার কক্ষের দরজা তালাবদ্ধ ছিলো।

আত্মহননকারীর মামা বজলুর রহমান জানান, এ সময় কর্মচারী আসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি আসতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। পরে তার মুঠোফোনের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে আসলাম হোসেন জানান, আড়াইটায় অফিস সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি বাড়িতে চলে গিয়েছেন। অফিস সময়ের মধ্যে কাগজপত্র পেলে ময়না তদন্ত হয়। অফিস সময়ের পরে সুরতহাল রিপোর্টের কাগজ জমা নেয়া হয় না।

এদিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, সকাল আটটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাশের ময়না তদন্ত করার জন্য সরকারিভাবে নির্দেশনা রয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, পর্যাপ্ত জনবল না থাকার কারণে কর্মচারী আসলামকে দিয়ে মর্গের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যে কারণে কিছুটা অনিয়ম হচ্ছে বলে তিনিও শুনেছেন। তন্নির ময়না তদন্তের কাগজপত্র তিনি কেনো জমা নেয়নি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।