যশোরে নিজ ফ্লাট থেকে খাদ্য কর্মকর্তার মৃতদেহ উদ্ধার

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোর উপশহরে নিজ ফ্লাট থেকে খুলনায় কর্মরত এক খাদ্য কর্মকর্তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত বদরুল আলম গাজী (৪৩) মণিরামপুর উপজেলার ভরতপুর গ্রামের নিছার আলী গাজীর ছেলে।

তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ত্রী ও বাবা ভিন্ন দাবি করেছেন। তবে পুলিশ বলছে, ময়না তদন্ত প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বদরুল আলম গাজী খুলনার মানিকতলায় ফুড ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছুটি নিয়ে বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন।

নিহতের স্ত্রী পিংকি আলম জানান, তারা সপরিবারে উপশহর ডিব্লকের একটি ১০ তলা ভবনের ৪ তলায় বসবাস করতেন। তার স্বামী বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। হাসপাতালে ভর্তির কথা বললেও তিনি রাজি হননি। যে কারণে তিনি ফ্লাটেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্যালাইনও খাওয়ানো হয়েছিলো। তারপরেও মারা যান বদরুল আলম। তার ধারণা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পানি শূন্যতায় তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে এখন নানা কথাবার্তা রটানো হচ্ছে। দোষী হলে সাজা মাথা পেতে নেবেন বলে জানান পিংকি আলম।

নিহতের বাবা নিছার আলী ও বোন জামাই জুলফিকার আলী দৈনিক স্পন্দনকে জানান, বদরুল আলমের অনেক টাকা ও সম্পদ রয়েছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত দাবি করা হলেও কি কারণে সঠিক সময়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। উপশহর থেকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের দুরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার। তাকে বিনাচিকিৎসায় বাড়িতে ফেলা হয়েছিলো কোন উদ্দেশ্যে।

তাদের অভিযোগ, বদরুল আলম ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। তার ধন সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য স্ত্রী পিংকি ও তার আপনজনেরা মিলে কৌশলে বদরুলকে হত্যা করেছে। এখন সাধারণ মৃত্যু বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।

তারা আরো জানান, পিংকির ভাষ্য মতে বদরুল আলম বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা গেলো তাদের খবর দেয়া হয়েছে বিকেলে। এতে তাদের সন্দেহ বেড়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই ফেরদৌস ফকির জানান, খাদ্য কর্মকর্তা বদরুল আলমের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে খবর শুনে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে যান। পরে তার নিজ ফ্লাট থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তার বাবা পক্ষের লোকজন দাবি করছে বদরুলকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত থানায় লিখিত দেয়নি। তবে স্ত্রী পিংকি পুলিশকে তথ্য দিয়েছে তার স্বামী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে মারা গেছেন।

হাসপাতাল মর্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য রুহুল আমিন জানান, নিহত বদরুল আলমের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

লাশের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরিফ আহমেদ জানান, খাদ্য কর্মকর্তার মৃত্যু নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। আলামত সংগ্রহ করে ভিসেরা রিপোর্ট করার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু তা প্রতিবেদন আসলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।