যবিপ্রবির ফ্রি হেলথ্ ক্যাম্প অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত: ডেপুটি স্পিকার

::মোসাব্বির হোসাইন, যবিপ্রবি::

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি বলেছেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) মানবতার সেবায় যে ফ্রি হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করেছে, তা বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য দৃষ্টান্ত। সকলে যদি এ ধরনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে গরিব-দুঃখী মানুষ সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে না।

শনিবার সকালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) গ্যালারিতে আয়োজিত ‘ফ্রি হেলথ্ ক্যাম্প ২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ফ্রি হেলথ্ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। সমাজের অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ‘কমিউনিটি সার্ভিস’-এর অংশ হিসেবে যবিপ্রবি দ্বিতীয়বারের মতো একটি ফ্রি হেল্থ ক্যাম্পের আয়োজন করেছে। এবারের হেলথ্ ক্যাম্পে প্রায় ৪ হাজার রোগী চিকিৎসা ও ওষুধ সামগ্রী পেয়েছেন।

ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যসেবার জন্য তাদের হাত সম্প্রসারিত করেছে। এভাবে যদি দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উদ্যোগ নেয়, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয় দেশের সব স্কুল-কলেজ যদি এ ধরনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে গরিব মানুষেরা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে না। বঙ্গবন্ধু গরিব-দুখি মানুষের জন্যই সারা জীবন জেল খেটেছেন। ১৫ আগস্টে আমরা যে শোক দিবস হিসেবে পালন করি, এ আয়োজনের ফলে তার সার্থকতা হবে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যরা শিক্ষা নিক, কীভাবে ১৫ আগস্টের মর্যাদা দিতে হয়। বঙ্গবন্ধুকে আপনারা যে মর্যাদা দিয়েছেন, এ ধরনের আয়োজন তার আনুষ্ঠানিক পরিচয় বলে মনে করি।

ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্যে ফ্রি হেলথ্ আয়োজনের গুরুত্ব এবং নিজের সংসদীয় আসনে ফ্রি হেলথ্ ক্যাম্প আয়োজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য রোগের বিস্তার যেনো না হয় এজন্য সচেতনতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী ও সিনিয়র কনসালটেন্ট আব্দুর রশীদ বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের মহতী উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার মানুষ মানে তো সুস্থ-সবল, সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ। এ জন্য মানুষকে আমাদের সচেতন করতে হবে এবং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আনোয়ার হোসেন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইকবাল কবীর জাহিদ, রেজিস্ট্রার আহসান হাবীব প্রমুখ। এর আগে অতিথিদের কালোব্যাজ পরিয়ে দেন যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যবিপ্রবির প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা দীপক কুমার মন্ডল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রম। হেলথ্ ক্যাম্পে ঢাকা, খুলনা ও যশোরের কার্ডিওলজি, সার্জারি, শিশু কার্ডিয়াক সার্জন, রক্তনালী সার্জন, মেডিসিন, ডায়াবেটিক, গাইনি, চর্ম, নিউট্রিশনিস্ট, অর্থোপেডিকস, চক্ষুরোগ, নাক, কান ও গলা, ডেন্টাল, শিশু, মনোরোগ, বক্ষব্যাধি, পেইন অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি, ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন এবং জেনারেল প্রাকটিশনার বিষয়ে ৫২ জনের অধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রায় ৪ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও লাইব্রেরি ভবনে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত মডেল ফার্মেসির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ ওষুধ সামগ্রী বিতরণ করে। এ মডেল ফার্মেসি পরিচালনায় সহায়তা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান সিতেশ চন্দ্র বাছার।

এছাড়া রোগীদের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় হতে প্রদানকৃত একটি মোবাইল ভ্যান চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ৫টি হুইলচেয়ার, একটি সাইকেল হুইলচেয়ার, ভিজুয়াল এইড ও হেয়ারিং এইডসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করে। হেলথ্ ক্যাম্পে বিআরবি হাসপাতালের উদ্যোগে একটি চিকিৎসা বিষয়ক বিশেষ কর্নারও ছিল।