দুই বছর ধরে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে চৌগাছার পাতিবিলাবাসী

::বাবুল আক্তার, চৌগাছা ::

পাতিবিলা ইউনিয়নের হয়াতপুর গ্রামের ভূগর্ভস্থ পানিতে ভয়াবহ আর্সেনিক। আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারাও গেছেন কয়েকজন। ঝুঁকিপূর্ণ এ এলাকার বাসিন্দাদের আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহে এক সময় সরকারি বেসরকারি অনেক সংস্থা এগিয়ে এলেও এখন কেউ পাশে নেই।

২০০৯ সালে বে-সরকারি সংগঠন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তৈরি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি দু বছর যাবৎ নষ্ট হয়ে আছে। বিদ্যুৎ বিল আর পানি শোধন ওষুধের অভাবে প্লান্ট এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। বাধ্য হয়ে আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলের পানি খাচ্ছে স্থানীয়রা। ফলে তারা আবারও আর্সেনিকে আক্রান্তের শঙ্কায় ভুগছেন।

স্থানীয় একটি টিউবওয়েল থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছিলেন আছিরন নেছা। তিনি জানান, প্রায় ৯-১০ বছর প্লান্ট থেকে আমরা আর্সেনিক মুক্ত পানি খেয়ে বেশ সুস্থ ছিলাম। কিন্তু দুই বছর ধরে এখান থেকে আর পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এখন বাড়ি থেকে বেশ দূরের একটি টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ওই পানিতেও আর্সেনিক আছে। তারপরও বেঁচে থাকার তাগিদে এই বিষ পানি পান করছি।

সরেজমিনে জানা যায়, এ প্লান্টে যে সংযোগ দেয়া আছে সেটি বাণিজ্যিক মিটার। প্রতি মাসে এ মিটারে ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত বিল আসে। এখানকার প্রত্যেকটি বাড়ি থেকে ৩০ টাকা আদায় করে বিদ্যুৎ বিল দেয়া হতো। আর ওষুধ বাবদ বছরে ১২৫ টাকা দিয়ে পানি খাওয়াসহ সংসারের সব কাজ করতেন। এ এলাকার বাইরে থেকে যারা পানি সংগ্রহ করতে আসতেন তাদের নিকট থেকে লিটার প্রতি ১ টাকা করে নেয়া হতো।

প্লান্ট স্থাপনের জমি দাতা হয়াতপুর গ্রামের মৃত বজলুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর স্বার্থে নিজের জমিতে এই প্লান্টটি স্থাপন করতে দিয়েছিলাম। মানুষ এখান থেকে আর্সেনিকমুক্ত পানি খেয়ে সুস্থ ছিল।

প্লান্ট নির্মাণের সময় দায়িত্বে থাকা বর্তমানে সিটকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপক নুরুল হুদা বলেন, পানি উত্তোলনের জন্য এক ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হতো সেটি নষ্ট হয়ে গেছে। এখন যদি স্থানীয়রা ওই ওষুধ কেনা আর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করেন তাহলে প্লান্টটি পুনরায় চালু করা সম্ভব।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল বলেন, পরিষদের পক্ষ হতে এ প্লান্ট চালুর জন্য এক লাখ টাকাও দেয়া হয়েছে। তবে চালু করতে গেলে অন্তত ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা প্রয়োজন। যদি সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায় তাহলে ওই প্লান্টটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।