নিখোঁজ মেয়ের জন্য মায়ের আহাজারি

::কাজী মৃদুল, কোটচাঁদপুর::

আমার মেয়েকে এনে দাওনা বাবা! দেড় বছর ধরে কত মানুষের হাত পাঁয়ে ধরেছি কেঁদেছি কেউ আমার মেয়েকে এনে দেয়নি। ‘চিন্তা’ আমার মেয়ে আমার ময়না পাখি কি ভাবে আছে, কেমন আছে জানি না। মেয়েকে খুঁজতে খুঁজতে আমি শেষ হয়ে গেছি। শরীরে বল পাইনা । কি করবো ঘরেও থাকতে পারছি না। সন্তানের জন্য মায়ের কষ্টটা তোমরা কি বুঝবে না বাবা বলেই ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকেন।

শুক্রবার ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে দৈনিক স্পন্দন অফিসে নিখোঁজ মেয়ের জন্য এমন আহাজারি করেন পৌর শহরের সলেমানপুর গ্রামের সেলিনা খাতুন কুড়োনি।

কুড়োনি বলেন, ১৪ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর সামান্য ভিটে বিক্রি করে বড় কষ্টে দুই মেয়ে নিয়ে সলেমানপুর গ্রামে ভাই আসাদুলের আশ্রয়ে চলে আসি। তারও অভাবের সংসার। দিন মজুরি কাজ করে সংসার চলে তার। যে কারণে নিজেদের ভরণ পোষনের জন্য আমাকে বাড়ি বাড়ি ঝিয়ের কাজ করতে হয়। বেশ কয়েক বছর আগে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়ে চিন্তাকে নিয়ে আমি থাকতাম। মেয়ে চিন্তাকে দিয়েছিলাম বাড়ির কাছা কাছি রাজা মেম্বারের বাসায় ঝিয়ের কাজের জন্য। সেখানে দেড় দুই বছর কাজ করার পর চিন্তা অনেকটা মানসিক ভারসম্যহীন হয়ে পড়ে। সেখান থেকে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে সুস্থ হলে চিন্তাকে বিয়েও দিয়েছিলাম। কিন্তু সে বিয়ে বেশী দিন টেকেনি। মেয়ের মাঝে মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা দিত। চিকিৎসাও চলছিলো। একদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে অজু করতে সে ঘরের বাইরে আসে। সেই থেকে মেয়ে নিখোঁজ। কত জায়গা যে খুঁজেছি কোনো হদিস পাইনি।

ওই এলাকার কাউন্সিলর কামাল হোসেন বলেন, মেয়ের শোকে মা সেলিনা খাতুন কুড়োনি পাগলের মত হয়ে গেছে। আমরা সাধ্যমত অনেক জায়গায় খোঁজ নিয়েছি কিন্তু পাইনি।

“চিন্তার” কেউ খোঁজ পেলে আশাদুলের (চিন্তার মামা) মোবাইল নম্বর ০১৮৮৩৯১৭৪৮১ জানানোর জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করেছেন মা।